নারায়ণগঞ্জে করোনা সতর্কতায় অনীহা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৩

ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও বিপদ কাটেনি এখনো। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ঢেউয়ের। সব পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে। সরকারও সব কিছু স্বাভাবিক করার সুযোগ দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে। কিন্তু নগরীর বেশির ভাগ মানুষই মানছে না অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ ও চাষাঢ়া রেল স্টেশনে গিয়েও স্বাস্থ্যবিধি মানতে যাত্রীদের অনীহা চোখে পড়ে। সকাল ৯টার ট্রেনে দেখা যায়, যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক ছাড়া ট্রেনে প্রবেশ করছেন। মাস্ক ছাড়া ট্রেনে প্রবেশ করা এক যাত্রীকে প্রশ্ন করলে রীতিমতো খেপে যান। মাস্ক পরে থাকা সচেতন যাত্রী মেহেদী হাসান বলেন, নারায়ণগঞ্জ ও চাষাঢ়া রেল স্টেশনে গেট না থাকায় স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গেট থাকলে সবাইকে বাধ্য হয়ে হলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হতো।

নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা সবাই যাত্রীকেই মাস্ক ব্যবহার করতে বলি। কিন্তু অনেকেই তা মানেন না। তারপরও আমরা টিকিট কাউন্টারে বলে দিয়েছি মাস্ক ছাড়া কারো কাছে টিকিট যেন বিক্রি করা না হয়।’ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, চিটাগাং রোডগামী ছয়টি পরিবহন কোম্পানির প্রায় তিন শতাধিক বাস চলাচল করে। এ বাসগুলোতে ওঠা বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। দেখা যায় একেকটি বাসে ২৫-৩০ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫-২০ জনের মুখেই মাস্ক নেই। কয়েক জন আবার মাস্ক মুখে না পরে কানে ঝুলিয়ে রেখেছেন। গণপরিবহনে মাস্ক না পরায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহূত হওয়ায় নগরী ও শহরতলীর রোগীদের চাপ এসে পড়েছে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। তবে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের অনেক স্বজনই মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

এক জন চিকিত্সক বলেন, ‘শুধু হাসপাতালে নয়, সব স্থানেই মাস্ক পরা জরুরি। কিন্তু মানুষ সেটা মানছে না। আমরা চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মাস্ক না পরে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। তারপরও গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত অবস্থান নেওয়া যায় না।’ এদিকে শহরের প্রায় সব মসজিদ ও উপাসনালয়ে এখন আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ প্রার্থনা করছেন না। সর্বত্র চলছে ঢিলেঢালা ভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।