দেখার হাওরে হচ্ছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৩

 ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচন নিয়ে অবশেষে বিতর্কের অবসান হলো। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হেটেলে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক এমপি প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলহাজ মতিউর রহমানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সভায় সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন আহসানমরা ব্রিজের উত্তর-পূর্ব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের এমন সিদ্ধান্ত তাত্ক্ষণিক সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আব্দুল মান্নানকে অবহিত করলে তিনি তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে জাতীয় সংসদে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে সংশোধনী আনার জন্য অনুরোধ জানান। রাতেই খবরটি সুনামগঞ্জ তথা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়লে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। 

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শামীমা শাহরিয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইনামুল কবীর ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায়, সাংগঠনিক                 সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা, সদস্য সুবীর তালুকদার বাপ্টু প্রমুখ বক্তব্য দেন। এদিকে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের অনেকেই বলেছেন যে স্থানটি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে সরকারি খাস জমি রয়েছে প্রচুর। অধিগ্রহণের খরচ কম। স্থানটি যদিও নিচু, তবে উন্মুক্ত। চার দিকে কয়েকটি রাস্তা সংযোগের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শান্তিগঞ্জ-দেখার হাওর-আমবাড়ী সড়ক হয়ে ডলুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক বা ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে নতুন শহরের গোড়াপত্তন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো যদি পানির ওপর ভাসমান হয় সাশ্রয়ী ও নয়নাভিরাম হবে। 

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের অদূরে পরিকল্পনামন্ত্রীর বাড়ি শান্তিগঞ্জ হওয়ায় ঐ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের দাবি উঠে শুরুতেই। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এমন পরিবর্তনও আনা হয়। কিন্তু আশাহত হন সুনামগঞ্জবাসী। স্থান নির্ধারণ নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মিসবাহর নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে ওঠে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘরনায়ও প্রকাশ্যে- অপ্রকাশ্যে দ্বিমত দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভপতির আহ্বানে অনুষ্ঠিত বৈঠক ও সিদ্ধান্ত সব বিতর্কের অবসান ঘটে।

এর আগে গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রীর তার বাসায় বৈঠক ডাকেন। কিন্তু জেলা সদরকে বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে স্থাপিত হবে—এমন বৈঠকে অংশ নেননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান। তিনি গত রাতে ইত্তেফাককে বলেন, ‘জনমত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ এতগুলো মেগা প্রকল্প একটি এলাকায় হওয়া শুভ নয়।