রাজশাহীর নারী-শিশুদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে শুধু ‘নেই’ আর ‘নেই’

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৫

রাজশাহী মহানগরীর বায়া এলাকায় সরকারি মহিলা-শিশু-কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রটি (সেফহোম) নানা সমস্যায় জর্জরিত। আবাসনটিতে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি হেফাজতি গাদাগাদি করে থাকছেন। তাদের চিকিত্সা সেবাও অপ্রতুল। নেই ডাক্তার, চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন নার্স। নষ্ট হচ্ছে অনেকের শিক্ষা জীবন। এখানে নেই পাঠদানের কোনো ব্যবস্থা। নেই বিনোদনের সুযোগও।

সেফহোম সূত্র মতে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেফহোমটি আগে বৃদ্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হতো। এখানকার দুইটি সেডে অসহায় বৃদ্ধরা থাকতেন। পরে বৃদ্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি বিলুপ্ত করে মহিলা-শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র করা হয়। বর্তমানে এখানকার দুইটি সেডের একটিতে হেফাজতিরা রয়েছেন। সূত্র মতে, এখানকার আসন সংখ্যা ৫০ জন হলেও বর্তমানে আছেন ১২৩ জন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী রয়েছেন ৫৭ জন। এদের সাহায্যের জন্য বর্তমানে কর্মরত আছেন এক জন উপতত্ত্বাবধায়ক, দুই জন আয়া, দুই জন বাবুর্চি। এছাড়া সুইপার, নার্স ও গার্ড আছেন এক জন করে। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য রয়েছেন ১১ জন আনসার সদস্য।

এদিকে হেফাজতিদের আবাসন সংকট থাকলেও নিয়ম না মেনে সেফহোমের একটি শেডে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন আয়া, বাবুর্চি, গার্ড, নার্স ও তত্ত্বাবধায়িকা পদের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পাঁচ কর্মচারী। অপর শেডে গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন সেফহোমের হেফাজতিরা। রাজশাহী সেফহোমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্যও নেই কোনো কোয়ার্টার।

অভিযোগ রয়েছে, হেফাজতিদের বাইরে এখানে বসবাসরতরা সরকারি খরচে ব্যবহার করছেন বিদ্যুত্ ও পানি। তাদের আত্মীয়-স্বজনরা এলে সেফহোমের ভেতরে হেফাজতিদের সঙ্গেই বসবাস করেন। এছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনীর ১১ জন সদস্যও অবস্থান করেন সেখানেই।

সেফহোমের তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক বলেন, তাদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে আসন সংকট রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য যথেষ্ট আয়াও নেই। ফলে এসব নিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বিষয়গুলো সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। একটি পাঁচতলা বিল্ডিং অনুমোদন হতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসিনা মমতাজ বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে এখানে প্রতিনিয়ত দ্বিগুণ সংখ্যক হেফাজতি থাকছেন। তারা কোর্টের মাধ্যমে এখানে আসেন। আমরা কোর্টকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। এজন্য আবাসন সংকট থেকেই যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এখানে কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা নেই। তাই বাড়তি কোনো লোকবলও দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া এখানে আয়াসহ অন্যদের শেড ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা সেখানে আর থাকবে না। এছাড়া আবাসন সংকটের বিষয়টি অধিদপ্তরে বলা হচ্ছে। নতুন করে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।