কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৬

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বিনষ্টসহ চিকিত্সক সংকট বিরাজ করছে। এতে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের ভোগান্তি ও তাদের নানাভাবে হয়রানি করার চিত্র। হাসপাতালে চিকিত্সকের ২১টি পদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ৯টি পদই শূন্য। আবার ৯টি শূন্যপদের মধ্যে আটটিই হচ্ছে কনসালট্যান্টের পদ। এখানে গাইনি কনসালট্যান্টের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। ফলে মহিলাদের জটিল রোগের চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া সার্জিকেল কনসালট্যান্টের পদ শূন্য থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। অপারেশন থিয়েটারটিও বর্তমানে বিনষ্ট হয়ে আছে। এটি মেরামত যোগ্য নয়। অ্যানেসথিয়া মেশিন নষ্ট। সম্পূর্ণ নতুন অ্যানেসথেসিয়া মেশিন সরবরাহ করতে হবে। এক্সরে মেশিনটি ১০ বছর যাবত্ অকেজো। রেডিওলজিস্ট ও এক্সরে টেকনিশিয়ান নেই। ইসিজির মেশিনটিও নষ্ট হয়ে আছে। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য রোগীদের হাতে            স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। এসব ক্লিনিকের এখন পোয়াবারো। স্লিপ নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয় বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দালালরা। প্রাইভেট ক্লিনিকে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।

সচেতন লোকজনের মতে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার কারণেই উপজেলা সদরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেশ কিছু প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে রোগীদের সেবার মান নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ উঠছে।

এ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৃতীয় শ্রেণির মোট কর্মচারীর পদসংখ্যা ১৫১। এর মধ্যে ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—স্বাস্থ্য সহকারীর ৩০টি পদ ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের তিনটি পদ। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ২২টি পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য। এছাড়া দারোয়ানের পদসংখ্যা ২। আর এ দুটি পদই রয়েছে শূন্য।

কনসালট্যান্ট চিকিত্সক সংকট বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন সাখাওয়াত উল্যাহ জানান, কনসালট্যান্ট চিকিত্সকের খসড়া তালিকা প্রণয়ন হয়েছে। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। দুই মাসের মধ্যে কনসালট্যান্ট চিকিত্সকের শূন্যপদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চিকিত্সক সংকট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বিনষ্টের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।