লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে ইউএনওসহ উপজেলা প্রশাসনের ১৭ জন কর্মকর্তা হুমকি, অসদাচরণসহ নানা অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দাবি করেন। চেয়ারম্যানের এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বিধি মোতাবেক তালিকা প্রণয়নের কথা বলেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস সংলগ্ন করিডোরে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরাটি উপজেলা চেয়ারম্যান তার একজন লোক দিয়ে খুলে ফেলেন। বিষয়টি ইউএনওর দৃষ্টিতে এলে তিনি তাত্ক্ষণিক সিসি টিভি ক্যামেরা খোলার দৃশ্যটি মোবাইল ফোন ক্যামরায় ধারণ করেন। এতে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দেব।’ তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ কী তোর বাবার সম্পত্তি? উপজেলা পরিষদ কী তুই চালাবি?’
এ অবস্থায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোশারফ হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যানকে থামানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত হয়ে তাকে ঘাড় ধরে উপজেলা পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন ফারুক ইমরুল কায়েস। এসময় অন্য অফিসাররা প্রতিবাদ জানালে তাদেরও গালিগালাজ করেন তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিষদে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর ইউএনওসহ উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার অনুলিপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। ঐ অভিযোগে উপজেলায় কর্মরত ১৭ জন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন।
এ প্রসঙ্গে আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, একটি পরিবারে চলতে গেলে সামান্য কিছু ভুলত্রুটি থাকবে। এগুলো নিজেরাই বসে ঠিক করতে পারতাম। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটি না করে আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সবই মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি ।
লিখিত অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, ‘এমন পরিবেশে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি করা দুরহ হয়ে পড়েছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছি।’
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালককে (ডিডিএলজি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
পালটা অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানের
এদিকে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় অধস্তন কর্মকর্তাদের উসকে দিয়ে ইউএনও তার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ দাখিল করেন বলে দাবি করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। গতকাল শনিবার বিকালে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলাটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। প্রত্যেকটি কাজেই ইউএনও উেকাচ নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বলেন, চেয়ারম্যান তার নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি সব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।
