যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এবার আরো অনেক কিছুর মতো নতুন ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন জিল বাইডেন। তিনি হোয়াইট হাউজে আসা প্রথম ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন যিনি চাকরিজীবী। ডক্টরেট ডিগ্রি থাকায় তিনি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৩১ বছরের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের প্রথম সর্বোচ্চ শিক্ষিত অর্ধাঙ্গিনী। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার থেকে ২০০৭ সালে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি কমিউনিটি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার বিসয়ে মনোযোগ দেন। শিক্ষিকা জিল বাইডেনের ইংরেজি এবং পড়াশোনার ওপরে দু’টি মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। তিনি ফার্স্ট লেডি হলেও শিক্ষকতার পেশা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
স্বামী বাইডেনের রক্ষক
অধ্যাপক জিল বাইডেনের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি তার স্বামীর একজন রক্ষক। সমাবেশে বাধা সৃষ্টিকারীদের ঠেকানো এবং বাইরে বের করে দেওয়ার কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের তিনি সহায়তা করেছেন। তবে এখন থেকে সম্ভবত এসব দায়িত্ব সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরাই গ্রহণ করবেন।
বাইডেনের সঙ্গে যেভাবে পরিচয়
কলেজ জীবনের প্রেমিকা ও প্রথম স¿ী নেইলিয়া এবং তাদের মেয়েকে ১৯৭২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় হারান বাইডেন। তিন বছর পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় জিল জ্যাকবসের। সেই সময় বাইডেন সিনেটর ও জিল কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। দুইজনই বিবাহিত ছিলেন। স্মৃতিচারণায় ২০০৭ সালে বাইডেন লিখেছিলেন, ‘সে আবার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে। নতুন করে পরিবার শুরু করার ব্যাপারে তিনি আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিলেন।’ জিল বাইডেন ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, তাদের প্রথম ডেটিংয়ের সময় (সিনেমা দেখতে যাওয়া) বাইডেন একটি স্পোর্ট কোট আর লোফার জুতা পড়ে এসেছিলেন। জিল বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, হায় ঈশ্বর, কোনোদিন সম্পর্ক হবে না। তিনি ছিলেন আমার চেয়ে ৯ বছরের বড়। কিন্তু এরপরে এই যুগলের সম্পর্কটা যেন তৈরি হয়ে যায়। সেই রাতের শেষে বিদায়ের সময় জিলের সঙ্গে করমর্দন করে বিদায় নেন বাইডেন। মধ্যরাতে মাকে ফোন করে জিল বলেন, ‘মা, আমি অবশেষে একজন ভদ্রলোককে খুঁজে পেয়েছি।’ তবে এরপরেও বিয়েতে জিলের সম্মতি পেতে জো বাইডেনকে অন্তত পাঁচ দফা চেষ্টা করতে হয়েছে।
