সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলাধীন মোহনপুর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এবং এর আশেপাশে বাজার-হাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এনজিওর অফিস আছে। মোহনপুর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। আবার লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন রাজশাহী, ঢাকা, খুলনাগামী ট্রেন চলাচল করে থাকে।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার বড়পাঙ্গাসী, মোহনপুর, উধুনিয়া এবং পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, দিলপাশার ইউনিয়ন নিয়ে এই নতুন থানা গঠিত হতে পারে। মোহনপুর থেকে এই ইউনিয়নগুলোর দূরত্ব কম—শুধু তাই না বরং ঐ ইউনিয়নগুলো শিক্ষা, যাতায়াত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মোহনপুরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এছাড়াও ইউনিয়নগুলোর মানুষকে প্রায় প্রতিদিন মোহনপুরে আসতে হয় নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে। ইউনিয়নগুলো দুর্গম চলনবিলের মধ্যে হওয়ায় দুর্বৃত্তরা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। অহরহ চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটে। একই কথা আরো তীব্রভাবে প্রযোজ্য—উল্লাপাড়ার বড়পাঙ্গাসী, উধুনিয়া, ভাঙ্গুড়ার হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, দিলপাশার ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম প্রস্তাবিত মোহনপুর থানার সঙ্গে একই যুক্তিতে সংশ্লিষ্ট করা যেতে পারে। এ ইউনিয়নগুলো থেকে থানা সদরের দূরত্ব অনেক। যার ফলে প্রয়োজনে থানা-পুলিশের সহায়তা পাওয়া যায় না। এসব জনপদ অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে মোহনপুর মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় এখানে থানা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। মোহনপুর যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে—লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন, সড়ক ও নদীপথে সবদিকে যাওয়া সম্ভব। পরিশেষে, সার্বিক দিক বিবেচনায় মোহনপুরে একটি থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোস্তফা জাহাঙ্গীর আলম
জাহান প্লাজা, ৪২/১-ক, সেগুনবাগিচা,
ঢাকা ১০০০
