মাধব রায়
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু-বার্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট
গতকালের পর
রবীন্দ্রনাথ একশ বছর আগে যে দুটি বক্তৃতা করেছিলেন সিলেট এসে, ‘বাঙালীর সাধনা’ এবং ‘আকাঙ্ক্ষা’ শিরোনামে সেই বক্তৃতা দুটি এই সংকলনে পুনঃপ্রকাশ করা হয়।
সকল অনুষ্ঠানেই রেখার অংশগ্রহণ ছিল। সম্মিলক কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং একক কণ্ঠে ‘আকাশ ভরা, সূর্য তারা’ গানটি দর্শকনন্দিত হয়েছে। নীলকান্তবাবু তানভীর সাহেবকে ফোন করেছিলেন-দোস্ত, ভাবিকে নিয়ে সিলেট চলে এসো, লাখো লোকের সমাগম হবে, মিলনমেলা হবে একটা, সেইসাথে নান্দনিক পরিবেশনা তো আছেই। তানভীর সাহেব সরি বললেন। না দোস্ত, ডিপার্টমেন্টে অনেক ঝামেলা। কাজ পড়ে আছে, এবারে আসতে পারছি না।
কী আর করা, নীলকান্তুবাবু ছেলেমেয়ে ভাগনা-ভাগনি আর স্ত্রীকে নিয়েই অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন। একেবারে শেষ পরিবেশনা ছিল রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান। সেইসময় আবার বৃষ্টিও ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছিল। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে নীলকান্তবাবু রেখাকে বললেন-জানিস, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এবং রবীন্দ্রনাথ পরস্পরের বন্ধু ছিলেন।
রেখা তো অবাক! রবীন্দ্রনাথ হলেন এতোবড় কবি। আর বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর সাথে তাঁর বন্ধুত্ব, কীভাবে ঘটল? নীলকান্তবাবু বললেন-এখন না, বাসায় গিয়ে তোকে সেই গল্প বলব।
বাসায় এসে রেখা বাবাকে ধরল, আইনস্টাইন-রবীন্দ্রনাথ গল্প বলার জন্য। চন্দ্রা, আকাশ, বিন্দু, অণু, সীমা, কণিকা সবাই এলো মজার কাহিনি শুনবে। কমলাও এককাপ চা হাতে এসে বসলেন।
রবীন্দ্রনাথ এবং আইনস্টাইন এর মধ্যে পাঁচবার কথা হয়েছিল। ১৯২১ সালে একবার এবং ১৯৩০ সালে চারবার রবীন্দ্রনাথ বার্লিনে আইনস্টাইনের সাথে দেখা করে ‘বাস্তবতা কী’ এই নিয়ে কথা বলেন। আইনস্টাইন বলেছিলেন জার্মান ভাষায় আর রবীন্দ্রনাথ ইংরেজিতে। দোভাষী ছিলেন দিমিত্রি মারিয়ানফ। এই আলোচনা ১৯৩০ সালের আগস্ট মাসে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন না-বললেন কমলা।
বিজ্ঞানের ছাত্র না হলেও তিনি বিজ্ঞান পড়েছেন সেই ছোটবেলা থেকে। জ্যোতির্বিদ্যা, প্রাণিবিদ্যাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের অসীম আগ্রহ ছিল। বিশাল মহাকাশ সম্পর্কে তিনি অশেষ আগ্রহ পোষণ করতেন, প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কেও তিনি কৌতূহলী ছিলেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সঞ্চয়’ নামে যে প্রবন্ধ সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ ছিল।
বিন্দু বলল- কিন্তু আমরা তো রবীন্দ্রনাথের ছোটদের গান শুনেছি। আমাদের স্কুলে আমরা গাই আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি।
রেখা বলল- রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানের গানও আছে। তাই নাকি! বলল সীমা। একটা গেয়ে শোনাও তো।
পরের অংশ আগামীকাল
