আচমকা ঝড় ফুটবল ক্যাম্পে। হেড কোচ জেমি ডে করোনায় আক্রান্ত। জেমির আক্রান্তের খবরে ফুটবলারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এক দিকে কোচ না থাকায় আতঙ্ক অন্য দিকে আক্রান্তকে দূরে রাখতে বাড়তি সাবধানতা। খেলোয়াড় কোচ এবং কোচিং স্টাফ সবাই একই হোটেলের অবস্থান করছে। কোচকে এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখতে হচ্ছে। যদিও কোচ এরই মধ্যে ম্যাসেজ দিয়েছেন তিনি না থাকলে কীভাবে দল পরিচালনা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়ে রেখেছেন। তার পরও কোচ না থাকার কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে একট দুর্ভাবনা কাজ করছে। আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং শেষ ম্যাচ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার বাংলাদেশ ২-০ গোলে নেপালকে হারিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে হারাতে উদগ্রীব বাংলাদেশ। কিন্তু কোচ জেমির অনুপস্থিতি জামাল ভুঁইয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, সাদ উদ্দিন, মানিক মোল্লা, তপু বর্মন, ইয়াসিন খানদের ভোগাবে সেটা নিশ্চিত। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবং নেপাল, দুই দলের সবাইকে কোভিড টেস্ট করানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জেমি ডের পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও জেমির নমুনা দেব। আশা করি, নেগেটিভ এসে যাবে।’
জেমিকে ছাড়াই অবশ্য গতকাল স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসের অধিনে অনুশীলন করেছে দল। নেপালের বিপক্ষে বদলি খেলতে নেমে দ্বিতীয় গোল পাওয়া সুফিল অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন, জেমি যেভাবে কাজ করে আসছে সেটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জেমি আজ অনুশীলনে থাকলে নতুন কিছু নিয়েই কাজ করতেন। দেখা যায় এখনো সময় আছে।’ নিজের গোলটি নিয়ে সুফিল বললেন, ‘আমি যে আক্রমণ হতে গোল করেছি সেটা গত দেড় মাস আমার ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন আমাকে অনুশীলন করিয়েছেন। সেটাই এখানে কাজে লেগেছে।’
নেপালের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় টনিক ছিলেন কোচ জেমি ডে। তিনি যেভাবে দলটাকে সাজিয়ে মাঠের লড়াইয়ের জন্য নামিয়েছেন এবং ডাগআউটে দাঁড়িয়ে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটা এই মুহূর্তে অন্য কারো পক্ষে সম্ভব না। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে খেলোয়াড় পরিবর্তনেও সেদিন জেমির মুন্সিয়ানার ছাপ দেখেছেন বাফুফের কর্মকর্তা।’ ফুটবলার সাদ উদ্দিন বললেন, ‘জেমির না থাকাটা আমাদের জন্য খারাপ লাগছে।’ ম্যানেজার আমের খান বললেন, ‘আশা করি, জেমি খুব দ্রুতই আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন।’
