অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত দুর্গাসাগর

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৪

পর্যটকবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

একযুগ পর অতিথি পাখিতে মুখরিত হচ্ছে বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘি। এবছর অতিথি পাখির বিচরণে আলোড়িত হচ্ছে সেই দিঘির পানি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর নামের ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্গাসাগর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। এরপর থেকেই আর কোনো অতিথি পাখি দেখা যায়নি দুর্গাসাগরে। পাখির কলকাকলী কমে যাওয়ায় কমতে থাকে পর্যটকদের সংখ্যা। অতিথি পাখিদের বিচরণ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী দুর্গাসাগরের সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চলতি শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গেসঙ্গে পাখির দেখা মেলায় পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এক সময় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রের সুনাম ফিরে আসতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এ দুর্গাসাগরে অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য পদ্মফুল ও শাপলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাখিরা তাতে দাঁড়িয়ে বিচরণ করছে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিকে আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে, আর কিছু কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এসব কাজের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে নির্মিত একটি কাঠের ব্রিজ। পাখির বিচরণ নিশ্চিত করেই কাঠের ঐ ব্রিজটি তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বর্তমানে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ও জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে দুর্গাসাগরের পশ্চিমপাড়ে তিনতলা বিশিষ্ট শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সে সঙ্গে শিশুদের খেলাধুলার জন্য ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মিনি শিশুপার্কও করা হচ্ছে। যেখানে দোলনাসহ শিশুদের বিভিন্ন রাইড থাকবে। এছাড়া দৃষ্টিনন্দন বোট টার্মিনালের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, যেখান থেকে নিরাপদ দর্শনার্থীরা দিঘির পানিতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। দীঘির পাড়জুড়ে বিদ্যুতায়ন ও দর্শনার্থীদের সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনও করা কাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাসাগরকে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমেও উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেস্ট হাউজ নির্মাণ, অবজারভেশন টাওয়ার স্থাপন, ফুল বাগান, সেমিপাকা পিকনিক সেড ও শপিং বিল্ডিং নির্মাণ, ২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপন এবং সংযোগ লাইটিং সাবস্টেশন স্থাপন, সোলার সিস্টেম স্থাপন, ওয়াইফাই সিস্টেম স্থাপন, বিদ্যমান কার পার্কিং ও সংস্কার এবং নতুন পাকিং এরিয়া নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ, প্রবেশ গেট পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহসহ অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ এবং প্রবেশমুখে গার্ডরুম নির্মাণ করা। এছাড়া দিঘির মধ্যে কৃত্রিম ফোয়ারা স্থাপন, থ্রিডি মুভি থিয়েটার স্থাপন, ক্যাবল কার স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, ঐতিহ্যবাহী এ দিঘিটির সার্বিক উন্নয়নে আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্গাসাগরে বিভিন্ন দেশীয় দুর্লভ প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও কবুতর পালন করা হচ্ছে। এর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এছাড়া এখানে মিনি চিড়িয়াখানা স্থাপন, পাখির সেড স্থাপন করে পাখি পালন, আকর্ষণীয় রাইডসহ মিনি শিশুপার্ক স্থাপন করার পরিকল্পনা ও কাজ এগিয়ে চলছে।