গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক পোশাককর্মী। এ ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে চটপটি খাওয়ার প্রলোভনে এক শিশুকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে এক পল্লি চিকিত্সকের নামে মামলা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে সহকর্মী বান্ধবীর সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী পোশাককর্মী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোরীর বান্ধবী আদুরী বেগম ও মূলঅভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার পূর্ব বাদশালা গ্রামের ঐ কিশোরী উপজেলার দিঘিরহাট চক মানিকপুর গ্রামের লুত্ফর রহমানের মেয়ে আদুরী বেগম ও তার স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে গার্মেন্টে কাজ করেন। গত ২৭ অক্টোবর আদুরী বেগম বেড়ানোর কথা বলে ঐ কিশোরীকে তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত শুক্রবার সকালে আদুরীর সম্পর্কের দুলাভাই সোহেল ঢাকার গাড়িতে তুলে দেওয়ার কথা বলে দিনভর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে রাতে অজ্ঞাতস্থানের একটি কলাবাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সোহেলসহ আরো চার-পাঁচ জন সংঘবদ্ধভাবে মিলে তাকে ধর্ষণ করে। রাত ১টার দিকে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে চটপটি খাওয়ার প্রলোভনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক শিশুকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার বিকালে নির্যাতনের শিকার ঐ শিশুর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। এর আগে ধর্ষক মুজিবুরকে উপজেলার পোটান গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে স্থানীয় গাজীপুর-ইটাখোলা বাইপাস সড়কের নোয়াপাড়া এলাকায় চটপটির ব্যবসা করে। তার ঘরে দুই স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তান রয়েছে।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইগাতীতে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল জলিল (৫৫) নামে এক পল্লি চিকিত্সকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আব্দুল জলিল উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্দিগাঁও গ্রামের মৃত ইনছার আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পল্লি চিকিত্সক হবার সুবাদে গত ৬ নভেম্বর আব্দুল জলিল পান খাওয়ার অজুহাতে পার্শ্ববর্তী হালচাটি গ্রামের ঐ গৃহবধূর বাড়িতে যায় এবং এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় দুই সন্তানের জননী ঐ গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় গৃহবধূর ডাকচিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক আব্দুল জলিল পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাটে ধর্ষিতার পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
এদিকে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, ধর্ষণ মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে এসে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় ধর্ষিতা জয়পুরহাট সদর থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন। এ বিষয়ে ধর্ষণের শিকার ঐ গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার ঐ গৃহবধূর মা জানান, গত ৪ নভেম্বর সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার চকশ্যাম গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বিদেশে চাকরি দেওয়ার নাম করে ডেকে এনে তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে ৫ নভেম্বর সদর থানায় মামলা করলে ঐ দিন রাতে কুদ্দুসকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে র্যাব-৫ সদস্যরা। কিন্তু জেলে যাওয়ার চার দিনের মাথায় গত ১০ নভেম্বর কুদ্দুস মেম্বার জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার, তার মা ও মামলার সাক্ষীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
গৌরীপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্ত:সত্তা
এদিকে গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুরে বখাটের ধর্ষণে ১৪ বছরের এক কিশোরী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েছে। ধর্ষক রাসেল মিয়া উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রাসেল মিয়া (২৬) কে আসামি করে বৃহস্পতিবার গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতার দাদী জানান, ৭/৮ মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাসেল তার নাতনীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সেসময় বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য সে নিষেধ করে ও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়। এতে আমার নাতনী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে।
