সমকালীন নবান্ন উত্সব

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৫৫

 

একদা অত্যন্ত সাড়ম্বরে নবান্ন উত্সব উদযাপন হতো আমাদের এই বাংলাদেশে—অসাম্প্রদায়িক উত্সব হিসেবে সমাদৃত ছিল। এখনো কিছু এলাকায় নবান্ন উত্সব অত্যন্ত আনন্দ মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে থাকে।

একদা নবান্ন উত্সবে কাকবলি, লক্ষ্মীপুজা, পিতৃশ্রাদ্ধ হয়ে গেলে সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করত। উলুধ্বনি দিত। এই উত্সব উপলক্ষ্যে কুড়ি থেকে চল্লিশ পদের রান্না হতো। তার মধ্যে থাকত বিভিন্ন রকমের শাক রান্না। দুপুরের নবান্ন অন্যের বাড়িতে করলেও রাতের নবান্ন সবাই নিজ বাড়িতে করত। পরের দিনও নবান্নের রেশ থাকত—সেটাকে বলা হতো ‘বাসি নবান্ন’ বা ‘বাস নবান্ন’।

নবান্ন উত্সবের অন্যতম প্রথা হচ্ছে কাকবলি। এতে একটি কলার ডগায় নতুন চাল, কলা, নারকেল নাড়ু কাককে খাওয়াতে হয়। প্রচলিত বিশ্বাস হচ্ছে, কাকের মাধ্যমে ঐ খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। এই নিয়ে ছড়া আছে :

কো কো কো

আমাগো বাড়ি শুভ নবান্ন।

শুভ নবান্ন খাবা, কাকবলি লবা,

পাতি কাউয়া লাঠি খায়,

দাড় কাউয়া কলা খায়,

কো কো কো

মোরগো বাড়ি শুভ নবান্ন।

নবান্ন মানে নতুন অন্ন—নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষ্যে কৃষকরা এই উত্সব পালন করে থাকেন। অগ্রহায়ণ মাসে—হেমন্তকালে। এ সময় আমন ধান কাটা হয়। এই নতুন ধানের চাল দিয়ে নবান্ন উত্সব হয়ে থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে ফসল কাটার আগে বিজোড় সংখ্যক ধানের ছড়া কেটে নিয়ে ঘরের চালে বেঁধে রাখে এবং বাকি অংশ চাল করে নতুন চালের পায়েস করে নবান্ন করা হয়।

নবান্ন উত্সবে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবার। সুস্বাদু খাবারের গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ। অঞ্চলেভেদে চলে জারি, সারি, মুর্শিদি, লালন, পালা ও বিচার গান— কোথাওবা মেলাও বসে আর সেখানে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, বায়স্কোপ দেখানো হয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন