l ফয়জুল আল আমীন
বাসক ভারত উপমহাদেশীয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। বাসকের অনেক গুণ। বাসকের ছাল, পাতা, রস সবই উপকারী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বাসক পাতাকে নানা রোগ সারাতে ব্যবহার করা হয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায়ও বাসকের ভেষজ গুণাবলি প্রমাণিত হয়েছে। সর্দি-কাশির মহা ওষুধ বাসক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ। এর মূল, পাতা, ফুল, ছাল সবই ব্যবহার হয়। বিশেষ করে বাসকের তাজা অথবা শুকনো পাতা ওষুধের কাজে লাগে। বাসকের কিছু ওষুধি গুণ এখানে তুলে ধরা হলো—
l বাসক পাতার ১-২ চামচ রস অর্ধ থেকে এক চামচ মধুসহ খেলে শিশুর সর্দি-কাশিতে উপকার পাওয়া যায়।
l জ্বর হলে বা কারও গায়ে অল্প জ্বর থাকলে বাসকের মূল ৫-১০ গ্রাম ধুয়ে থেঁতো করে ১০০ মিলি লিটার পানিতে ফোটাতে হবে। পানি শুকিয়ে ২৫ মিলি লিটার থাকাবস্থায় নামিয়ে তা ছেঁকে নিয়ে দিনে দু’বার করে খেলে জ্বর-কাশি দূর হয়।
l যদি কারও বুকে কফ জমে থাকে এবং তার জন্যে শ্বাসকষ্ট বা কাশি হলে বাসক পাতার রস ১-২ চামচ ও ১-২ চামচ কন্টিকারী রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কফ সহজে বেরিয়ে আসে।
l যাদের হাঁপানির টান আছে তারা বাসক পাতা শুকনো করে, ওই পাতা বিড়ি বা চুরুটের মতো পাকিয়ে এর সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।
l বাসক পাতার রস স্নানের আধ ঘণ্টা আগে মাথায় টানা কয়েকদিন মাখলে উকুন মরে যায়।
l প্রস্রাবে জ্বালা-যন্ত্রণা থাকলে ২-৩ চামচ বাসকের ফুল বাটা ও ১-২ চামচ মিছরি মিশিয়ে সরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
l বাসকের ১০-১২টি কচি পাতা ও এক টুকরো হলুদ একসঙ্গে বেটে দাদ বা চুলকানিতে লাগালে কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়।
l বাসক পাতা বা ফুলের ১-২ চামচ রস ১-২ চামচ মধু বা চিনিসহ প্রতিদিন খেলে জন্ডিস রোগে উপকার পাওয়া যায়।
l পাইরিয়া বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে ২০টি বাসক পাতা থেঁতো করে ২ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পানি এক কাপ থাকাবস্থায় নামিয়ে কুসুম-গরম অবস্থায় কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়।
l যাদের গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ হয়, তারা বাসক পাতার রস পানিতে মিশিয়ে গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।
l আমবাত ও ব্রণশোথে (ফোঁড়ার প্রাথমিক অবস্থা) বাসক পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
l শিশুর পেটে কৃমি থাকলে বাসকের ছালের ক্বাথ খাওয়ালে এর উগ্র তিক্ত স্বাদের কারণে কৃমি বের হয়ে যায়।
l বাসক পাতার রস ও শঙ্খচূর্ণ মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে রং ফর্সা হয়।
l এক কলসি পানিতে ৩-৪টি বাসক পাতা ফেলে ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে সেই পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায় এবং সেই পানি ব্যবহার করা যায়।
l বাসক পাতার রস নিয়মিত খেলে খিঁচুনি রোগ দূর হয়।
সতর্কতা :বাসকের পাতা, ছাল বা রস অধিক মাত্রায় খেলে বমি, বমিভাব কিংবা অস্বস্তি হয়। তাই পরিমাণে বেশী না খাওয়াই ভালো।
