নকল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে বিএসটিআইয়ের পদক্ষেপ বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট
পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) জাল লোগো পণ্যের গায়ে ব্যবহার করে বাজারে বিভিন্ন পণ্য দেদার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই অনেক কথা হচ্ছে। এ ধরনের জালিয়াতি রোধে কিউআর কোড (এক ধরনের নিরাপত্তা কোড) ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআই। এটি ব্যবহার হলে যে কোনো ধরনের পণ্যে মোবাইল ফোনের নির্দিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে ক্রেতা তা যাচাই করে নিশ্চিত হতে পারবেন, পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে বিএসটিআইর অনুমোদিত কি না। এর মাধ্যমে অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও জানা যাবে। গতকাল এ উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিএসটিআইর মহাপরিচালক ড. মো. নজরুল আনোয়ার বলেন, বিদ্যমান পণ্যের গায়ে বিএসটিআইর লোগো সঠিক কি না—তা ভোক্তারা যাচাই করতে পারেন না। কিউআর কোড বাস্তবায়ন হলে সাধারণ ক্রেতারা অবৈধভাবে বিএসটিআইর লোগো ব্যবহারকারীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। বিএসটিআইর সেবাকে আরো জনবান্ধব ও সহজীকরণ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আরো ৪৬টি নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন, ১৩টি আঞ্চলিক অফিসের পাশাপাশি ৬৪ জেলায় বিএসটিআইর অফিস স্থাপন, প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয় কার্যালয়ের বিদ্যমান ল্যাবরেটরিসমূহের আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গণশুনানিতে ইউনিলিভার, এসিআই, ম্যারিকো, আবুল খায়ের গ্রুপ, বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় তারা বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের কারণে ভোক্তার পাশাপাশি প্রকৃত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে বিএসটিআইর নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ আরো জোরদার করার দাবি জানান। বিশেষত তাদের আলোচনায় মোবাইল কোর্ট জোরদারের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মহাপরিচালক এক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএসটিআইর সেবা অতীতের চেয়ে দ্রুততম সময়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
