মংলায় আউটারবারে নাব্যতা সংকট

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

বাগেরহাট প্রতিনিধি

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ‘দ্বিতীয় লাইফ লাইন’ মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলের আউটারবারে নাব্যতা সংকটের কারণে সোমবার থেকে বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি তেলবাহী একটি বিদেশি জাহাজ। ফলে ওই জাহাজটি ফেয়ারওয়েতে রেখে পণ্য খালাস করায় স্বাভাবিকের তুলনায় তিনগুণ বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের। এই অবস্থায় বন্দর ব্যবহারকারীরা বন্দরের পশুর চ্যানেলের প্রবেশ মুখ ও আউটারবার এলাকায় দ্রুত ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নাব্যতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবেই অধিক ড্রাফটের বড় বড় জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও স্টারপাত সি ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রাজিল থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল নিয়ে বিদেশি জাহাজ এম,টি এমআর পেগাসাস সোমবার বিকালে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় ভিড়েছে। মঙ্গলবার দিনের প্রথম পূর্ণ জোয়ারেও জাহাজটিকে আউটারবার দিয়ে বন্দরের পশুর চ্যানেলে প্রবেশ করানো যায়নি। চ্যানেলের আউটারবার এলাকায় নাব্যতা কম থাকায় ১০ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) এ জাহাজটি বন্দরের মূল পশুর চ্যানেলে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে বন্দর চ্যানেলে সাড়ে ৭ মিটার গভীরতা থাকায় ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন ওই জাহাজটিকে বাধ্য হয়েই আউটারবারের বাইরে বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে রেখে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে। এতে অন্তত ৩ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারে। জাহাজটি বন্দর চ্যানেলের আউটারবার হয়ে পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া কিংবা চ্যানেলের অন্য কোনো বয়াতে রাখা গেলে খরচ অনেক কম হতো। প্রথমে মোংলা বন্দরে আসা এই জাহাজটি হতে ১১ হাজার ৭শ মেট্রিক টন ভোজ্য তেল খালাসের পর বাকি তেল চট্টগ্রাম ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরে খালাস হবে।

এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মোহাম্মদ দুরুল হুদা বলেন, বর্তমানে সাড়ে ৭ মিটারের গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে। আউটারবার এলাকায় দ্রুত ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্রেজিং শেষ হলে ১০ মিটারের জাহাজ বন্দরে অনায়াসে ভিড়তে পারবে।