১৫ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন আট বছর বাক্সবন্দি!

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৫

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ক্যানসার চিকিত্সার জন্য আনা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিও থেরাপি মেশিনটি দীর্ঘ আট বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের এই মেশিন মানুষের চিকিত্সাসেবায় কোনো কাজে আসছে না। এমন বাস্তবতার মধ্যেও খুলনায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যার ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ফলে ক্যানসার চিকিত্সায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে ক্যানসার চিকিত্সায় উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুলাই মাসে লিনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিনটি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আনা হয়। মেশিনটি রাখা হয় ক্যানসার বিভাগের ভবনের সামনে। তখন থেকে আজ অবধি মেশিনটি সেখানেই বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

সূত্রমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মেশিনটি প্রতিস্থাপন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে সাড়ে ৭ কোটি টাকা চাওয়া হয়, যার মধ্যে ৫ কোটি টাকা মেশিনের অন্যান্য অংশ ও ২ কোটি টাকা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চিঠি চালাচালিতে এখন পর্যন্ত বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে ১৫ কোটি টাকার মেশিনটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুমেক হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিটে কোনো ইনডোর ওয়ার্ড নেই। বহির্বিভাগে মাত্র দুই জন চিকিত্সক থাকলেও এক জন বেশির ভাগ সময় খুলনার বাইরে থাকেন। ক্যানসারের আধুনিক চিকিত্সা ও খরচ কমাতে সরকার আটটি বিভাগে আটটি ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে খুলনায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এটা বাস্তবায়নের জন্য খুলনার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

রেডিও থেরাপি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মুকিতুল হুদা বলেন, খুমেক হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সার্জারি, কেমোসহ অন্যান্য চিকিত্সা হলেও কোনো প্রকার রেডিও থেরাপির ব্যবস্থা নেই। এখানে বেশ কয়েক বছর আগে লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিন এলেও তা স্থাপন করা হয়নি এখনো। মেশিনটির হাই রেডিয়েশন প্রটেকশনের জন্য বাংকার তৈরি করা প্রয়োজন। তাছাড়া এই মেশিন স্থাপন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল হয়নি।