‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা একাডেমি অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে পুস্তক প্রকাশকরা তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালকরাও ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র সঙ্গে ‘বাংলা একাডেমি’ যুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা জাতির মননের প্রতীক। এ মেলায় জাতীয় মিলনমেলা ও উত্সবের আমেজ রয়েছে। ‘বাংলা একাডেমি’ যুক্ত করে এর ব্যাপকতাকে হ্রাস করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে এটা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু বইমেলা পরিচালনা নীতিমালায় তা পাওয়া যায়নি। সেখানে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া, প্রতি বছর বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চের ব্যানার, দাওয়াত কার্ডসহ সবখানেই ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ লিপিবদ্ধ ছিল। আর আয়োজনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির নাম লেখা থাকত।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মনজুরে মওলা যার হাত দিয়ে এই বইমেলা আধুনিক রূপ পায় তিনি ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমে বইমেলার নাম ছিল ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা’। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। আমরা মনে করেছিলাম, ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা’ নামকরণ করা মানে এটাকে একটি প্রতিষ্ঠানের জিনিস করে ফেলা। আর ‘অমর একুশে বইমেলা’ নাম করা হলে এটা জাতীয় রূপ পায়। আমরা তাই নামের সঙ্গে ‘বাংলা একাডেমি’ যুক্ত রাখার কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। তাই বদল করা হয়েছিল। এমনকি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বাংলা একাডেমির নামও লেখার কারণ খুঁজে পাইনি।
এর আগে, গত বছর ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছিলেন ‘গ্রন্থমেলা’র বদলে ‘বইমেলা’ বেশি শ্রুতিমধুর। প্রধানমন্ত্রীর সেই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে এ বছর ‘গ্রন্থমেলা’ শব্দটি বদলে ‘বইমেলা’ করা হয়। সেই বদলের সময়ই ‘বাংলা একাডেমি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বইমেলা পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘গ্রন্থমেলা’র বদলে ‘বইমেলা’ করা হবে এটা আমরা জানি। কিন্তু ‘বাংলা একাডেমি’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমরা জানি না। এটা করা হয়ে থাকলে আমাদের না জানিয়ে করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমান সভাপতি শামসুজ্জামান খান বলেন, এটা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না সেটা আমি বলতে পারব না। আমার সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনা করেনি। তবে, ‘অমর একুশে বইমেলা’য় জাতীয় বইমেলার চরিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে ‘বাংলা একাডেমি’ যুক্ত করার প্রয়োজন দেখি না।
এই নামকরণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির যৌথ প্রতিনিধি দল গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আবিদ হোসেন এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ।
এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এটা আগে থেকেই ছিল পরিবর্তন করা হয়নি। আর এটা থাকাটা দোষের কিছু নয়। কারণ, এ মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি আর প্রকাশকরা এতে অংশ নেন। ফলে, আমি তো কোনো সমস্যা দেখি না।
আর গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, অনেক আগে থেকেই এ নামকরণ রয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকেই মেলাটির অফিসিয়াল নাম ‘বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।
