উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারী সদস্যরা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে। মত্স্য প্রক্রিয়াজাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারী শ্রমিকরা পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পেয়ে থাকেন। এমনকি জেলেপাড়ার ৮২ শতাংশ নারী সমাজের কোনো সালিশে বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করেননি।
গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘উপকূলীয় মত্স্য খাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি প্রয়োজন : আর্থসামাজিকভাবে বঞ্চিত জেলে পরিবারের নারীরা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংস্থাটি উপকূলীয় তিন জেলা কক্সবাজার, ভোলা এবং বাগেরহাটের চারটি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১ হাজার ২০০ জেলে পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করে।
সমীক্ষার সারসংক্ষেপে বলা হয়, নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় দৈনিক প্রায় ২৫ শতাংশ কম মজুরি পায়। সম্পদ কেনাকাটায় জেলে পরিবারের ৩১ শতাংশ নারীর কোনো মতামত গ্রহণ করা হয় না। পরিবারের সাধারণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ৫৮ শতাংশ নারী সদস্যের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। অন্যদিকে জেলে পরিবারের মাত্র ২ শতাংশ নারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন।
সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের ৬৫ শতাংশ কোনো না কোনো সহিংসতার শিকার এবং পুরুষ সদস্য মাছ ধরতে বাড়ির বাইরে থাকলে তাদের প্রায় সবাই আতঙ্কে থাকেন।
কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, জেলেরা মাছ ধরতে সমুদ্রে চলে গেলে নারীদের পুরো সংসার সামলানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়। নারীর এই কাজগুলো বেশির ভাগই অর্থের বিনিময় মূল্য দিয়ে বিবেচনা করা হয় না। এ জন্য এই খাতে নারীর অবদানটির এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি নেই।
