১১ হাজার ৩৬৪ চিকিত্সকের পদ খালি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৭

সারা দেশে চিকিত্সকের ১১ হাজার ৩৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে। ৬৪ জেলার সবকটিতেই চিকিত্সকের পদ খালি আছে। এর মধ্যে ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২৯০, ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২৬০ জন, ৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে ১০০ জন এবং ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৬৫০ জন চিকিত্সক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গতকাল সোমবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

লিখিত উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলাভিত্তিক চিকিত্সকের শূন্য পদের পরিসংখ্যান দেন। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ১৮৫টি চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে ঢাকায়। মন্ত্রী জানান, ওএসডি চিকিত্সকের সংখ্যা বেশি থাকায় ঢাকায় বাড়তি চিকিত্সক দেখানো হয়েছে।

কোন জেলায় কত শূন্য পদ: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরে ২৭৮, গাজীপুরে ১২৫, গোপালগঞ্জে ২৮৩, কিশোরগঞ্জে ২৩৭, মাদারীপুরে ৪২, মানিকগঞ্জে ২১৪, মুন্সিগঞ্জে ৯১, নারায়ণগঞ্জে ৫৩, নরসিংদীতে ৫২, রাজবাড়ীতে ৭৪, শরীয়তপুরে ৭৮, টাঙ্গাইলে ৯০, জামালপুরে ১৫৬, ময়মনসিংহে ৩১১, নেত্রকোনায় ১২০, শেরপুরে ৪৭, বান্দরবানে ৪২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৫, চাঁদপুরে ৫৬, চট্টগ্রামে ৩৪৬, কুমিল্লায় ২২৬, কক্সবাজারে ১৩৪, ফেনীতে ৪৮, খাগড়াছড়িতে ৩৭, লক্ষ্মীপুরে ৩৪, নোয়াখালীতে ৯৮, রাঙ্গামাটিতে ৬০ ও বগুড়ায় ২৬৫ চিকিত্সকের পদ খালি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০, দিনাজপুরে ৩৩৩, গাইবান্ধায় ৭৬, জয়পুরহাটে ৬১, কুড়িগ্রামে ৯০, লালমনিরহাটে ৬৪, নওগাঁয় ১১৯, নাটোরে ৪৯, নীলফামারীতে ১২৫, পাবনায় ১২৪, পঞ্চগড়ে ৭৬, রাজশাহীতে ২৩৩, রংপুরে ২৬১, সিরাজগঞ্জে ১৬১, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৩, বাগেরহাটে ১২৪, চুয়াডাঙ্গায় ২১, যশোরে ১২৩, ঝিনাইদহে ৭৭, খুলনায় ৩৯৬, কুষ্টিয়ায় ১০৭ ও মাগুরায় ৫০ পদ শূন্য। এছাড়া মেহেরপুরে ৪৫, নড়াইলে ৪৯, সাতক্ষীরায় ১৬৫, বরগুনায় ৯৪, বরিশালে ৪৩৮, ভোলায় ৯২, ঝালকাঠিতে ৩৭, পটুয়াখালীতে ১৮৭, পিরোজপুরে ৭৮, হবিগঞ্জে ৫৫, মৌলভীবাজারে ৬৩, সুনামগঞ্জে ১৩১ এবং সিলেটে ৩৩১ চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা: সরকারি দলের হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ৩৯তম বিসিএসে (২য় পর্যায়) নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিত্সকদের বিশেষ ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করার জন্য সংযুক্তির মাধ্যমে পদায়ন করা হচ্ছে। উপজেলার চেয়ে নিম্ন কোনো প্রতিষ্ঠানে ৩৯তম বিসিএস (২য় পর্যায়) নিয়োগপ্রাপ্ত কাউকে পদায়ন করা হচ্ছে না। তবে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজনে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য সংযুক্তির আদেশ বাতিল করে এই চিকিত্সকদের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে পদায়ন করা হবে।

দ্রুততম সময়ে করোনা পরীক্ষার পদ্ধতি আনার প্রক্রিয়া চলছে বিএনপির জি এম সিরাজের প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক জানান, সরকার কোভিড পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এসংক্রান্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য আধুনিক ও দ্রুত সময়ে পরীক্ষার পদ্ধতি দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কম হওয়ার কারণে মানুষ বেশি বেশি পরীক্ষা করতে চাচ্ছে না। এ কারণে দেশে সর্বোচ্চ সক্ষমতার চেয়েও দৈনিক কমসংখ্যক নমুনা সংগৃহীত হচ্ছে।