কার্ড থাকলেও ভাতা পান না প্রতিবন্ধী হাবিবুর

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:১৯

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

জেলার শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুরের সারাসিন গ্রামের দিনমজুর মোঃ হাবিবুর রহমান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি আজ পঙ্গুত্বের শিকার। অতিকষ্টে সংগ্রহ করেছেন একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী কার্ড; কিন্তু কার্ডধারী হয়েও তার ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত এক টুকরো ভিটায় তার বাস। অর্ধাহারে অনাহারে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে বেঁঁচে আছেন তিনি।

তিনি জানান, স্ত্রী মহিলা বেগম আর একমাত্র ছেলে জাকির হোসেনকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তার সংসার। নিজের কোনো জমি না থাকলেও কোনো চিন্তা ছিলো না তার। কারণ তখন তার দেহে ছিল যথেষ্ট শক্তি আর অফুরন্ত মনোবল। ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন হূদয়ে ধারণ করে তিনি অন্যের জমিতে কাজ করেছেন হাসিমুখে। ছেলে শিক্ষিত হয়ে ভাল চাকরি করবে, ঘুচে যাবে সকল দুঃখ— এ আশায় বুক বেঁধে সর্ব শক্তি দিয়ে তিনি মাঠের কাজ করতেন। ক্লান্তি যেন তাকে স্পর্শ করার সুযোগ পায়নি কখনো।

কিন্তু তার বুকের লালিত স্বপ্ন আস্তে আস্তে ম্লান হতে থাকে। মাঠে কাজ করার এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমানের ডানপায়ে কোনো এক অদৃশ্য বস্তু ঢুকে যায়। ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে থাকে তার পা। সর্বশেষ অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয় তার ডান পা। বগলে থাকা দুইটি লাঠি আর অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে যায় হাবিবুর রহমানের জীবনে। সংসারের হাল ধরতে হাবিবুরের স্ত্রী মহিলা বেগম ১১০ টাকা হাজিরায় শ্রমিকের কাজ নেয় পাশের গ্রামের জুটমিলে; কিন্তু সে জুটমিলও এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিবন্ধীর সংসারের চাকা। উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি তার ছেলেকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে পাঠান জুতার কারখানায়। ছেলের সামান্য বেতনের টাকায় অর্ধাহারে অনাহারে চলছে তার সংসার।

অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে পঙ্গু হাবিবুর রহমান আক্ষেপ ভরে বলেন, এই কার্ড ঘরে রেখে কি লাভ? ৫ মাস আগে এই কার্ড পেয়েছি। এই কার্ড তো আমাকে খেতে দেয় না। আমার স্বপ্নের জাল ছিড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মৃদুস্বরে কথাগুলো বলার সময় অঝোর ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছিল প্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমানের দুই চোখ থেকে।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আমীন ডিউক-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। হাবিবুর ৫ মাস আগে কার্ড পেলেও ভাতা পায় নি। এরকম অনেকে আছে ১০ বছর আগে কার্ড পেয়েছে এখনো ভাতা পায়নি। আমার উপজেলায় এখনো ২ হাজার কার্ডধারী প্রতিবন্ধী আছে। তার মধ্যে ভাতা পায় মাত্র ১০০ জন। সরকার যদি কার্ড হিসাব করে ভাতা দেয় তাহলে সকল কার্ডধারী প্রতিবন্ধী ভাতা পাবে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ মহীউদ্দিন জানান, আমার জেলায় যতজন প্রতিবন্ধী কার্ডধারী আছে তার অর্ধেক ভাতায় টাকা বরাদ্দ পাই সরকারের কাছ থেকে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে শতভাগ কার্ডধারীকে ভাতা প্রদান করা।