বিদ্যালয়ে কোচিং করতে যাচ্ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েটি (১৭)। পথে প্রতিবেশী হেলাল জরুরি কাজের কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই ছাত্রী দৌড়ে গিয়ে আরেক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ব্যক্তি হেলাল উদ্দিনকে (৪২) ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। মঙ্গলবার সকালে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম কচুরগুল গ্রামে হেলাল বাড়ি। এ ব্যাপারে জুড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়ি গোয়ালবাড়ীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। সে এ বছর স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাড়ি থেকে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার দেখা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বরাত দিয়ে এলাকাবাসী জানান, হেলালের বাড়িতে ঢোকার পর হেলাল দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছাত্রীটি বিবস্ত্র অবস্থায় দরজার ছিটকিনি খুলে দ্রুত আরেক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে সে সেখানে অচেতন হয়ে পড়ে। এ সময় খবর পেয়ে স্বজনেরা ছুটে এসে মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় পাশের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার সময় হেলাল উদ্দিন বাড়িতে আর কেউ ছিল না। তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে সম্প্রতি বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছেন।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর হেলাল উদ্দিন বাড়ির পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন। এদিকে ছাত্রীর ওপর নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জঙ্গল ঘেরাও করে হেলাল উদ্দিনকে ধরে বিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে তাকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।
জুড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হবে।
