বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি যে কাতার যেতে পারবেন না সেটা বাংলাদেশ নেপাল ফিফা প্রীতি ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। জেমি করোনার কারণে নেপালের বিপক্ষে মাঠে যেতে পারেননি। কিন্তু দলের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের কাতার না যাওয়াটা আচমকাই ঘটেছে। জীবন কাতার বিপক্ষে খেলতে পারছেন না ইনজুরির কারণে। নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন জীবন জানিয়েছে বাফুফে। তখন খেলা দেখে বুঝা যায়নি চোট পেয়েছেন। ম্যাচের পর এক দিন কেটে গেল তখনো জানা গেল না জীবনের চোট। পরশু কাতারের বিপক্ষে ২৭ ফুটবলারের নাম ঘোষণা করেছে বাফুফে। সেখানেও জীবনের নাম ছিল। জীবন জাতীয় ফুটবল দলের এক নম্বর স্ট্রাইকার। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোল করেছেন। দারুণ গোল ছিল সেটি। তার গোলের পর ফুটবল দল নেপালের বিপক্ষে আরো উজ্জীবিত হয়। ভালো খেলে ২-০ গোলে জয় পায়। বাংলার ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দেখে নেপালে বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দর্শক সংখ্যা বাড়ে মাঠে। সেই ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হলেও জীবনের খেলা ছিল নজরকাড়া। জীবনের খেলা দর্শক মন ছুঁয়েছে। একটু নিচে খেললেও সারাক্ষণ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভয়ের মধ্যে রাখছিলেন জীবন। কিন্তু সেই জীবন কাতারের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারবে না এটা ফুটবল দলের জন্য বড় ধাক্কা। মূল স্ট্রাইকার ছাড়াই কাতারের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে বংলাদেশকে।
গতকাল সকালে কাতারগামী ফুটবল দল হোটেল ছেড়ে যায় আর জীবন তার বাসার পথে রওনা দেয়। আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল জীবন যেতে পারছে না। দলের ডাক্তাররা চেষ্টা করেছেন জীবনের হাঁটুতে সমস্যা সারিয়ে তোলা যায় কি না। কিন্তু খেলার উপযোগী করার মতো জীবনকে তৈরি করতে পারেননি দোটানায় থাকা চিকিত্সক ও ফিজিও থেরাপিস্টরা। অস্ট্রেলিয়ান ফিজিও নাকি পজিটিভ মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু ঝুঁকি হয়ে যায় জীবনের জন্য। জীবনকে কাতারে নিয়ে যাওয়া হলেও সে মাঠের বাইরেই বসে থাকবেন। তাই দলের সঙ্গে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ ৪ ডিসেম্বর। হাতে ১০ দিন সময় ছিল। এর মধ্যে জীবনকে সারিয়ে তোলা যেত কি না একটা প্রশ্ন থেকে যায়। মামুনুল ইসলাম হাতে চোট নিয়েও কাতার গেছেন। তার খেলাটা পুরোপুরি অনিশ্চিত। তার পরও মামুনুলকে কাতার ভ্রমণের জন্য দলে নেওয়া হলো। মামুনুল যেতে পারলে জীবনকে কেন নেওয়া হলো না। এর আগে চোট পেয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ছিলেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজী, গোলকিপার সোহেল।
