ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

ভুলগুলো শুধরাতে চান রিয়াদরা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১১

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ কেবলই শেষ হলো। সিলেটের দুঃস্বপ্ন থেকে ফিরে এসে ঢাকায় ২১৮ রানের বিশাল এক জয়ে সিরিজে সমতায় দিয়ে শেষ হলো মিশন। তারপরও গতকাল বিকেলে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়েই বেশি কথা বলতে হলো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে ঢাকায় এমন পারফরম্যান্সের পরও উন্নতির জায়গা দেখছেন অধিনায়ক রিয়াদ। তবে একই সাথে এটাও জানালেন যে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস যোগাবে স্বাগতিকদের। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলাটাই এমন, আপনি যদি একশ’ করেন কিংবা দু’শ’ পঞ্চাশ করেন তারপরও ব্যক্তিগতভাবে মনে হবে আমার এই জায়গাতে কাজ করা দরকার। কারো যদি সুইং, স্পিন কিংবা সুইপ শটে দুর্বলতা থাকে সেখানে উন্নতি করার সুযোগ থাকে। এই ম্যাচটা জিতে যেহেতু আমার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নামবো, এর জন্য এটা ভালো একটা কামব্যাক। ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো হয়েছে, অনেকেই ভালো করেছে। সবাই একসঙ্গে ভালো করবে না। কখনো টপঅর্ডার রান করবে, কখনো মিডল অর্ডার রান করবে। যার যার পজিশন থেকে সবাই চেষ্টা করছে। সবাই ট্রেনিং সেশনগুলোতে চেষ্টা করছে। কারণ আমাদের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। এই ম্যাচে রান করাতে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস আরও ভালো হবে। এই আত্মবিশ্বাস আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও কাজে দেবে।’

সর্বশেষ জুন-জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সীমিত ওভারে ভালো করলেও টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। আর এটা বলে না দিলেও চলে যে, জিম্বাবুয়ের চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ খুবই শক্ত। সেটা মাথায় রেখেই রিয়াদ সিরিজটিকে চ্যালেঞ্জিং বলে মানছেন। তবে এবার দেশের মাটিতে খেলা বলেই আশাবাদী তিনি। বললেন, ‘বিষয়টি আমি এভাবে চিন্তা করছি না। ওদের যে পেস বোলার আছে রোচ বা গ্র্যাবিয়েল -  সবাইকে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছি, ওই অভিজ্ঞতাটুকু আছে ওরা কেমন বোলিং করতে পারে। তাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট এবং বাংলাদেশের উইকেট তো এক নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ে আমাদের কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তা থাকলে আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাস আছে আমরা আমাদের স্কিলের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবো।’

ক্যাচ মিস মিরপুর টেস্ট শেষে আবারো বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালো। যদিও, রিয়াদ অবশ্য খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন, ‘যদি খেয়াল করে থাকেন, প্রথম টেস্টে আমাদের স্লিপ ক্যাচে বেশ কয়েকটা ফিফটি ফিফটি চান্স মিস করেছিলাম। এটা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তারপরও আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। অনেক সময় একটা ক্যাচ ম্যাচের মোমেন্ট টাইম ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই জিনিসটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আশাকরি ভবিষ্যতে আমরা এখানে উন্নতি করতে পারবো।’

সিরিজ শুরু হবে টেস্ট দিয়ে। আগামী ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। এরপর ৩০ নভেম্বর ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ক্যারিবিয়ানরা। এই সিরিজটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ হিসেবে স্টুয়ার্ট ল’র শেষ অ্যাসাইনমেন্ট হতে যাচ্ছে। দুই টেস্ট ছাড়াও বাংলাদেশের মাটিতে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নয় ডিসেম্বর শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২২ ডিসেম্বর শেষ হবে চলতি বছরে বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ।