তিন বিমানবন্দরে বসছে অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৪

ঘন কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হযরত শাহজালালসহ তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে দেশের সব বিমানবন্দরের রানওয়ের লাইটিং ব্যবস্থাও উন্নয়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাত্ক্ষণিকভাবে রানওয়ের সব তথ্য জানার পাশাপাশি যন্ত্রের সাহায্যে অবতরণ পদ্ধতি উন্নত হলেই কেবল বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ নিরাপদ হবে। এতে এয়ারলাইনসগুলোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে, সেই সঙ্গে কমবে যাত্রী দুর্ভোগও।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিমান চলাচলের জন্য শাহজালালসহ তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অটোমেটিক ওয়েদার সিস্টেম স্থাপনের পাশাপাশি আইএলএস এর ক্যাটাগরি উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে ভিসিবিলিটি, বাতাসের পরিস্থিতি ফোকাস করা যাবে। ডিজিটাল মোডে এবং ভয়েস কমিউনিকেশনের মাধ্যমে পাইলট দ্রুত সরাসরি জানতে পারবেন যে, রানওয়েতে কি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শীতকে সামনে রেখে প্রত্যেক বিমান বন্দরের লাইট আপগ্রেড এবং যেখানে যেখানে স্বল্পতা আছে সেখানে সেখানে আমরা পূরণ করছি।’ তিনি বলেন, ‘শীত এলেই এয়ারলাইনসগুলোর উদ্বেগ বাড়ে। ঘন কুয়াশায় বা ভারী বৃষ্টিতে রানওয়ে দেখা না যাওয়ায় অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। এতে শিডিউল এলোমেলোই শুধু নয়, যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি অন্য দেশে উড়োজাহাজ অবতরণের কারণে ব্যয় বাড়ছে এয়ারলাইনসগুলোর।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পক্ষকালে অন্তত কয়েক শ ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়, শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪টি ফ্লাইট বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামতে না পেরে অন্য দেশে গিয়ে অবতরণে বাধ্য হয়। বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এতে করে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোও বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ঘন কুয়াশার কারণে পাইলটের দৃষ্টিসীমা কমে এলেই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই দৃষ্টিসীমা একেক দেশে একেক রকম হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়নের জন্য সর্বনিম্ন দৃষ্টিসীমা ৪০০ মিটার। অবতরণের বেলায় তা ৮০০ মিটার। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, অত্যাধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় শীতকালের রাতে ও ভোরে দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের নিচে এলেই ঢাকামুখী উড়োজাহাজকে অন্যত্র নামার সংকেত দেওয়া হয়। আর ঢাকা থেকে বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে দিতে হয়। বিমান যোগাযোগে নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক প্রায় সব মানদণ্ড মেনে চলা হয়। এজন্য সামান্য ঝুঁকি থাকলেই বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে শাহজালালসহ দেশের তিন বিমানবন্দরের আইএলএস বা ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমের ক্যাটাগরি ১। ফলে বিরূপ আবহাওয়ায় দৃষ্টিসীমা ৬০০ মিটারের নিচে নামলে বন্ধ হয়ে যায় বিমান ওঠানামা। বাকি চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নেই কোনো আইএলএস। দুর্ভোগ নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের আইএলএস উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছে বিমান সংস্থাগুলো।