ফেডারেশন কাপ ফুটবল আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট হলেও কোচদের জন্য ছাড় নেই। কোচিং লাইসেন্সধারী কোচ ছাড়া টুর্নামেন্টেও কোচরা কাজ করতে পারবেন না। কোচিং লাইসেন্সধারী কোচরা প্রিমিয়ার ফুটবলের বড় আসরে কোচিং করাতে পারবেন। তবে ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ হতে হবে।
প্রিমিয়ার ফুটবলের অনেক ক্লাবের কোচের লাইসেন্স ছিল না। এখন প্রায় সব ক্লাবই লাইসেন্সধারী কোচ রাখার পক্ষে। কঠোর আইন করে দিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এই কঠোর আইনের ফাঁক গলিয়ে দেশের তিনটি ক্লাব এবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েছে। বাফুফের নজরে এসেছে নবাগত দল নোফেল ক্লাব, বিজেএমসি এবং চট্টগ্রাম আবাহনী। এই তিন ক্লাব সপ্তাহখানে আগে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছিল। রেজিস্টার্ড কোচ ছাড়া মাঠে দাঁড়ানো যাবে না।
বাফুফের লিগ কমিটির একটি সূত্রের দাবি, ‘নোফেল, বিজেএমসি এবং চট্টগ্রাম আবাহনীকে আমরা শোকজ করেছিলাম। তারা জবাব দিয়েছে। দুটি ক্লাবের কোচ বিকেএসপিতে চাকরি করেন। তারা ছাড়পত্র না পাওয়াতে দেরি হয়েছিল। আরেকটি ক্লাব এরই মধ্যে মিলন মোল্লাকে কোচ মনোনয়ন দিয়েছে।’
এই সূত্রটি জানায়, কোনো ক্লাব রেজিস্টার্ড কোচের নাম জমা দিয়ে মাঠে আসবে না, এটি হবে না। মাঠে থাকাটা বাধ্যতামূলক।’ লিগের খেলায় এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হতে পারত। বাফুফে সূত্র জানায় এএফসির নির্দেশনা সবক্ষেত্রে সমান। তাই আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট বলে কোনো কথা নেই। দেশের ফুটবলের বড় আসরে খেলতে হলে এখন এএফসির অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয় ক্লাবগুলোকে। যারা মানছে না, তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। ক্লাব ফুটবলে মাত্র চারটি ক্লাবের লাইসেন্স রয়েছে। অথচ ১৩ ক্লাব এবার প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলবে। ভেন্যু নিয়ে তারা তত্পর। ু
একটা সময় দেশের ফুটবলে বাঘা বাঘা সব কোচ কোচিং বিদ্যা পড়ে আসেননি। খুব বেশি হলে ভারতের পাতিয়ালা থেকে একটা কোচিং লাইসেন্স করে আসতেন এমন অনেক কোচ তৈরি হয়েছিলেন একটা সময়। তারপরও দেশে যেসব বাঘা বাঘা ফুটবলার তৈরি করেছিলেন, সেসব ফুটবলার দেশের অলংকার হয়েছেন। জাতীয় দলে বছরের পর বছর দাপিয়ে খেলেছেন। জাকারিয়া পিন্টু, নীলু, নওশের, কায়কোবাদ, এনায়েত, কাজী সালাহউদ্দিন, শেখ মোঃ আসলামরা খেলার জীবনে বিজ্ঞান কোচিং খুব একটা পাননি। এখনকার মতো তাদের কোচরা দেশ-বিদেশে আধুনিক কোচিং কোর্স করার সুযোগ পায়নি। কোচিং লাইসেন্সবিহীন কোচদের যুগ শেষ করে দিয়েছে এএফসি। নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে দেশে দেশে। ফুটবলের পাঠশালা যেন ফুটবল বিদ্যায় শিক্ষিত কোচ শিক্ষাদান করেন, তার জন্যই কোচিং পেশাটাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এএফসির নির্দেশনা মানতে বাধ্য হচ্ছে বাফুফে।
