ঢাবির সান্ধ্য প্রোগ্রাম

অবশেষে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ২২:২২

চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বৈঠক হয়। বৈঠকে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তির বিষয়ে উপাচার্যের অনুমতির কথা জানান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুষদের কয়েকটি বিভাগের চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অথচ পরীক্ষার বিষয়ে কোনো কিছুই জানতেন না উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। জানতেন না নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টরও। শেষ পর্যন্ত গতকাল শুক্রবার পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে বেলা ১০টা ৩৪ মিনিটে উপাচার্যের নির্দেশনায় স্থগিত করে দেওয়া হয় ভর্তি পরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুষদের কয়েক জন চেয়ারম্যান জানান, অনুষদের পরীক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত হয় উপাচার্য এবং ডিনদের সম্মতিতে। অনুষদের ডিন চেয়ারম্যানদের বৈঠকে উপাচার্যের মৌখিক অনুমতি ছিল বলে জানান। এতে চেয়ারম্যানরা সম্মতি দেন। ডিন যেভাবে বিষয়টি নিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অনুমতি ছিল বলে মনে করেছি। আমরা ভেবেছি, ওপরের গ্রিন সিগন্যাল না থাকলে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এখন গণমাধ্যমের মারফতে জানতে পেরেছি উপাচার্যের অনুমতি ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের স্থগিত হয়ে থাকা পরীক্ষা, যেসব পরীক্ষা শুরু হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ করা সম্ভব হয়নি, যেমন—ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা, মিডটার্ম, ভাইভা এগুলো যদি একটি বা দুটি থাকে এবং তা যদি শেষ না হয় সেগুলো নেওয়ার নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জারি করেছিল। যেসব শিক্ষার্থী অল্পের জন্য শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছে না তাদের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।’

জানেন না প্রক্টর

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা হয় প্রক্টর অফিসে। কিন্তু এ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো ধরনের আবেদন পত্র যায়নি প্রক্টর অফিসে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টি জানে। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

উপাচার্য জানান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদনগুলো দেখার পর সকালে এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের সঙ্গে আমার কথা হয়। সান্ধ্য কোর্সের নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে ভর্তি পরীক্ষা ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলি।

অনুষদের শিক্ষকদের যুক্তি

ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন অনেক শিক্ষক। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি’কে পাঁচ সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি। তাই তারা ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।