যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য হিসেবে পরিচিত জর্জিয়ায় ভোট পুনর্গণনায়ও জয়ী হয়েছেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভোটে কারচুপির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প শিবির আবারও বিভিন্ন রাজ্যের ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির দাবি করেছেন। যদিও প্রমাণ দেয়নি। তাদের দাবি, ভেনিজুয়েলাও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। এরই মধ্যে তিনটি রাজ্যে ভোটে কারচুপি নিয়ে করা ট্রাম্প শিবিরের মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে মার্কিন গণতন্ত্রকে খাটো করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
জর্জিয়ায় তবুও জয়ী বাইডেন
জর্জিয়ায় ভোট পুনর্গণনাতেও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রায় দেড় হাজার ভোট বেড়েছে। তবে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতি বা কারচুপির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট কার্যালয় জানিয়েছে, পুনর্গণনা শেষে ১২ হাজার ২৮৪ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পকে হারিয়েছেন বাইডেন। এতে আগের ফলাফলের চেয়ে ডেমোক্রেট শিবিরের কিছু ভোট কমেছে, বেড়েছে রিপাবলিকানদের। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড র্যাফেন্সপারগার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জর্জিয়ায় ঐতিহাসিক প্রথম রাজ্যব্যাপী নিরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে, নতুন সুরক্ষিত পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালটে ভোট সঠিকভাবে গণনা করা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের কাউন্টি এবং স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমের কৃতিত্ব, যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদন করতে দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় আইন অনুসারে শুক্রবারের মধ্যেই জর্জিয়াকে ভোটের ফলাফল জানাতে হতো। জর্জিয়ায় জয় প্রসঙ্গে বাইডেনের প্রচারণা দলের যোগাযোগ কর্মকর্তা জ্যাকলিন রথেনবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, ভোট পুনর্গণনা শুধু এটাই নিশ্চিত করেছে যা আমরা এরই মধ্যেই জানি। জর্জিয়ার ভোটাররা বাইডেনকে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। পুনর্গণনায় আগে বাদ পড়া প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ভোট খুঁজে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের ঝুলিতে পড়েছে ১ হাজার ৪০০টির বেশি ভোট। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত মানুষের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নয় বলে দাবি করেছেন তারা।
ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির দাবি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির নেতৃত্বে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের আইনি দল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির দাবি জানিয়েছে। প্রায় ৯০ মিনিটের ঐ ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরা হয়। তবে তারা ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ তুলে ধরেননি। প্রচারণা শিবিরের আইন উপদেষ্টা জেনা এলিস এ সময় বলেন, এখন কেবল প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, সামনে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। নির্বাচনে ভেনিজুয়েলা ও বিনিয়োগকারী জর্জ সোরেসের হস্তক্ষেপ আছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্পের আরেক আইনজীবী সিডনি পাওয়েল।
সিডনি পাওয়েল জানান, নির্বাচনি প্রযুক্তি সংস্থা ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমের ভোটিং মেশিনগুলো কারচুপির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজের নির্দেশনায় এ ইলেকট্রনিক মেশিনের সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন ও সোরোসের সঙ্গে ঐ কোম্পানির সম্পর্ক আছে। তবে সিএনএন জানিয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ভেনিজুয়েলার সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ মারা গেছেন ২০১৩ সালে। এদিকে মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত্ করছেন। জানা গেছে, রাজ্যটিতে বাইডেনের জয়কে যাতে স্বীকৃতি না দেন সেই প্রচেষ্টাই চালাবেন। জো বাইডেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণতন্ত্রের বিষয়ে বাকি বিশ্বকে ক্ষতিকর বার্তা দিচ্ছেন। তিনি যা করছেন তাতে তিনি আমেরিকার একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত হতে যাচ্ছেন।
তিন রাজ্যে ট্রাম্প শিবিরের মামলা খারিজ
অ্যারিজোনা, পেনসিলভেনিয়া ও জর্জিয়ায় রিপাবলিকান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। জর্জিয়ায় ট্রাম্প মনোনীত বিচারকই রিপাবলিকানদের ভোটের ফল স্থগিতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। অ্যারিজোনায় বিচারক রাজ্যের ভোট পুনঃ নীরিক্ষা এবং ভোটে বিলম্ব করার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। পেনসিলভেনিয়ায় ২ হাজার অনুপস্থিত ব্যালট গণনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রিপাবলিকানরা এসব ব্যালট বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
