রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে ডোমের সহকারী হিসেবে কাজ করত মুন্না। তার দায়িত্ব ছিল রাতে মর্গে লাশ পাহারা দেওয়া। কিন্তু মধ্যরাতে সে মেতে উঠত এক বীভত্স কর্মকাণ্ডে। আত্মহত্যা করেছে এমন তরুণীদের মৃতদেহের সঙ্গে সে বিকৃত আচরণে লিপ্ত হতো। সবার অগোচরে দিনের পর দিন এই জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে মুন্না ভগত (২০)। এসব অভিযোগে অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা মুন্নার বাবার নাম দুলাল ভগত। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের পাশেই একটি কক্ষে সে থাকত। মুন্না ঐ হাসপাতালের মর্গের প্রধান ডোম জতন কুমার লালের ভাগ্নে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করছে। আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সি মেয়েরাই ছিল মুন্নার টার্গেট। মুন্না ঐ হাসপাতালের স্টাফ না হয়েও মামার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে সিআইডি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডিএনএ ল্যাব পরীক্ষায় পাঁচটি মরদেহে গ্রেফতারকৃত মুন্নার বিকৃত আচরণের আলামত মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে ডোম মুন্না ভগত দোষ স্বীকার করে গতকাল শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিউটন কুমার দত্ত জানান, এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
