মুুহাম্মদ দিদারুল আলম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
উচ্চারণ নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘আর কত দিন’ গত শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়। এটি ছিল তাদের ১২০তম মঞ্চায়ন। বাসুদেব বসু রচিত ও নাট্যজন শামীম আহমেদ নির্দেশিত নাটকটিতে অচিনপুর গ্রামের প্রভাবশালীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীদের কাহিনি উঠে এসেছে প্রতিবাদী এক কণ্ঠস্বর হয়ে। তারা মণ্ডল ও তার অনুচরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। যেখানে পিতা-পুত্রের সম্পর্ক হয়ে ওঠে জটিল এক সমীকরণে। যার জন্য অবশেষে হত্যার মতো পথ বেছে নেয় তারা। ফলে শান্তি ফিরে আসে গ্রামে।
নাটকটিতে দেখা যায়, অচিনপুর গ্রামের প্রভাবশালী মণ্ডল ও তার অনুচররা নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর অত্যাচারের জাল বিস্তার করে অনেকদিন ধরে। দিনদিন তাদের অত্যাচারের মাত্রা এতই বেড়ে যায় যে, নিরীহ গ্রামবাসী এমনকি মণ্ডলের পুত্র-কন্যাও নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাচ্ছিল না। তাই একদিন গ্রামবাসী প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।
অবশেষে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের বিনিময়ে পুত্রের হাতে পিতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সত্যের জয় হয়। হবু পাগলা ও নির্যাতিত গ্রামবাসী নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে এবং অশান্তির কালস্রোত বিলীন হয়ে শান্তি ফিরে আসে অচিনপুর গ্রামে।
এতে অভিনয় করেন শামীম আহমেদ, সাজ্জাদ বিন আলম, বাবু, লিটু, রানা, মোরশেদ, স্বপ্না, বিচিত্রা, কেয়া, জয়া, মুনমুন, তন্ময়, রুনা, ইশরাত, নিগার সুলতানা, অজয়, টুটুল, আকাশ, রবিন, ফোরকান, রানা, মামুন, মোস্তফা, সাব্বির, জামিল, খলিল ও প্রিন্স। আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন নোমান। সঙ্গীত পরিচালনা করেন নাফিজা শামীম প্রাপ্তি।
নাটক শেষে সাদেক সাব্বিরের সঞ্চালনায় ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোসলেম উদ্দিন সিকদার লিটন, শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী ও রেজা কায়সার। প্রদীপ দেওয়ানজী তার বক্তব্যে বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের জন্য প্রয়োজন মুক্ত সংস্কৃতি চর্চা।’ কবিতা আবৃত্তি এই চর্চার প্রধান মাধ্যম বলে মনে করেন তিনি। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি শুদ্ধ উচ্চারণ চর্চার করতে আহ্বান করেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা নাট্যকর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
নাটক শেষে নাট্যজন শামীম আহমেদ আহমেদ দর্শক উপস্থিতি নিয়ে এক কথোপকথনে বলেন, ‘আমরা নাটককে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চাই। নাটকের অর্থ যদি দর্শকের বোধগম্য না হয় তবে সেই নাটকের কোনো মানে বহন করবে বলে আমি মনে করি না। তাই মানুষের সঙ্গে নাটকের অর্থকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’ নাটক দেখতে আসা এক দর্শকের মন্তব্য করেন, ‘মঞ্চনাটকের যে আলাদা আবেদন রয়েছে তা টেলিভিশন নাটকে কিন্তু পুরোপুরি অনুপস্থিত। টেলিভিশন নাটকে কাহিনি ও দৃশ্যায়নের ভিন্নতা যে রকম থাকে মঞ্চনাটকে ভিন্নতা থাকে অন্যরকম। বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপের পরিবেশনায় একই নাটকের উপস্থাপনাতেও থাকে ভিন্নতা। আর এটিই মঞ্চনাটকের মূল আকর্ষণ। সময় সুযোগে তাই মঞ্চে নাটক দেখতে চলে আসি।’
