বুড়িমারীতে জুয়েল হত্যা

প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও ক্ষতিপূরণ দাবি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৯

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার, পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর শালবন এলাকায় নিহত জুয়েলের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এলাকাবাসীর পক্ষে সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নিহত জুয়েলের বড় বোন হাসনা আক্তার লিপি, স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা, এলাকাবাসী অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, অলক নাথ, জুয়েল ও শামিম। সংবাদ সম্মেলনে নিহত জুয়েলের পুত্র ও কন্যা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সংম্মেলনে বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর বুড়িমারীতে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার লাশ পুড়িয়ে ভস্মিভূত করা হয়েছে। একটি সভ্য সমাজে আর গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনের দেশে এরকম ঘটনা অভাবনীয় ও উদ্বেগজনক। ঐ ঘটনার সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেন। অন্যদিকে ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম জুয়েলের শার্টের কলার ধরে টেনেহিচড়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান। এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। বরং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ স্থানীয় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তাকে একটি সরকারি চাকরি প্রদান, হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি রংপুরে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়।