ফাইভজি প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৯

আগামী প্রজন্মের জন্য আসছে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। ৫জি’র জগতের নেতৃত্বের জন্য চলছে প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতার জন্য চীন, জাপান ও কোরিয়া প্রস্তুত। বর্তমানে ওয়্যালেস শিল্প ৪.৭ মিলিয়ন চাকরির বাজার তৈরি করে দিয়েছে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে বার্ষিক ৪৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রাখছে। ফাইভজি আরো রুপান্তরী হতে পারে- আমাদের জীবনকে আরো ভালো করে তুলছে এবং জাতিকে নিরাপদ করার পাশাপাশি দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলছে। ওয়্যারলেস প্রযুক্তির নেতৃত্ব বজায় রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা করতে পারে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রযুক্তিগুলো ফাইভজির ছোঁয়ায় বদলে যাবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে

এ খেলায়। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

ওয়্যারলেস টেকনোলজি

আমাদের চার পাশের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ওয়্যারলেস টেকনোলজি। ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা ভয়েস, ভিডিও, ডাটাসহ অনেক তথ্য স্থানান্তর করে থাকি। এই প্রযুক্তি এত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে যে, আমাদের জীবনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আমরা প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস প্রযুক্তিকে আরো উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা করি এবং আমাদের জীবনে আগামীতে আরো উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা প্রভাবিত হবে। এতে আমাদের কর্মজীবনের মানদন্ড, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

সব সময় সব কিছুর সঙ্গে সংযোগ

ফাইভজি নেটওয়ার্ক পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নেটওয়ার্কের মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করবে। এই প্রযুক্তি আগামীতে আরো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হবে। সব সময় সব কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া যাবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। ফাইভজি’র মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সুবিধাদি বিস্তৃত হবে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়্যারলেস সেবাদাতা কোম্পানি ফাইভজি প্রযুক্তিতে ২৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। এতে অন্তত ৩ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রাখবে। অনুমান করা হচ্ছে , প্রতি একশ’ আমিরিকান একটি নতুন ফাইজি প্রযুক্তির চাকরির দ্বারা উপকৃত হবেন। এছাড়া আলাদাভাবে

৫জি’র অর্থনৈতিতে ভূমিকা রাখবে।

ফাইভজি প্রযুক্তিতে সর্বত্র অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করা যাবে। এই প্রযুক্তিতে অন্তত ৩ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। ২৭৫ বিলিয়ন নতুন বিনিয়োগ হবে এবং ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

 

৫জিতে শিল্পের সুফল

স্বস্থ্যসেবা, শক্তি, পরিবহন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ই-কমার্স, সরবরাহ ও শিক্ষাসহ প্রতিটি শিল্প ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে। এটাই ফাইভজি’র শক্তি। এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি দিককে স্পর্শ করবে। আমাদের আরো স্মার্ট, নিরাপদ ও দ্রুতগতির করে তুলবে।

স্বাস্থ্যসেবা

ফাইভজি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগিদের সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিত্সা প্রদান ও জরুরি  অস্ত্রোপচারের মতো সেবগুলো খুব সহজেই প্রদান করা সম্ভব হবে। এই কাজের জন্য হয়তো আধুনিক বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করা হতে পারে।  এই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হলে স্বাস্থ্যসেবার খাত থেকে প্রতি বছর অন্তত ৩০৫ বিলিনয় মার্কিন ডলার খরচ কম হবে ।

 

পরিবহন

ফাইভজি প্রযুক্তিতে স্বচালিত গাড়ি পরিবহন খাতের প্রায় ৯০% ভূমিকা রাখতে পারে। এতে করে অন্তত ৪০% হারে ভ্রমণ সময় বাঁচবে এবং বার্ষিক ২২ হাজার জীবন বেঁচে যাবে। এছাড়াও বার্ষিক ভ্রমণ খরচ কমবে ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

স্মার্ট সিটি

ওয়্যারলেস-পাওয়ার স্মার্ট সিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমাধানের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর অন্তত ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ কম খরচ হবে। ওয়্যারলেস সেন্সরের মাধ্যমে বিভিন্ন ভবন, সরক এবং সেতু, বাস-স্টপস, তারের খুঁটিসহ শহরের বিভিন্ন সেবা আরো সহজতর হবে।

ফাইভজি’র বিবর্তন

একটি ফোন কল করা ও একটি খুদে বার্তা প্রেরণ থেকে প্রায় লক্ষ লক্ষ ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন দ্রুত গতিতে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করার জন্য প্রায় চার দশক ধরে ওয়্যালেস প্রযুক্তি ভূমিকা পালন করে চলেছে। সম্প্রতি এর উন্নত ও দ্রুতগতির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ দ্রুত গতির প্রযুক্তি ফাইভজি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

ফাইভজি’র লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো শিল্প ও সম্প্রদায় তাদের ফাইভজি’র লড়ায়ে জিতলে সুবিধা ভোগের জন্য প্রস্তুত। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, যত দ্রুত সম্ভব এটির বাস্তবায়ন ঘটানো প্রয়োজন। আমরা ফোরজি’র বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়াতে আমরা পুরস্কার ভোগ করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের ফোরজি সম্পর্কিত নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হয়েছে। আগামির নেটওয়ার্ক ফাইভজি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ অনেক দেশ এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে। তারা এই প্রতিযোগিতায় জিততে সব কিছুই করছে। সম্প্রতির একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ফাইভজি’র প্রস্তুতি অনেক এগিয়ে রয়েছে। এদিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে নেই।

নীতিগত সমাধান

ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে নেতৃত্বপ্রদানকারী দেশের জন্য আমাদের ধারনা থাকা প্রয়োজন। ফাইভজি’র নীতিমালা প্রস্তুতকারীদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে।                                                                          

                                                                  সূত্র :ctia.orgctia.org