ড্রেজার যন্ত্রের মাধ্যমে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে উপজেলার শিলক খালের বিভিন্নস্থানে পাড় ভাঙছে। পাড়ের বসতভিটা এবং আবাদি জমি খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের পাড়ে ধস দেখা দেয়। বোরো মৌসুমে খাল পাড়ের বিলগুলোতে পানি সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। বিঘ্নিত হয় চাষাবাদ। বর্ষাকালে একমুখী স্রোতের এ খালে পাহাড়ি ঢল নামে। এসময় খালে ভাঙন ভয়াবহ হয়ে উঠে। তীব্র ঢলের তোড়ে কুল ভেঙে ঘর-বাড়ি ভেসে যায়। ঢলের পানিতে বয়ে আসা বালুর স্তর পড়ে আবাদি জমি ঢেকে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবার ড্যামের উজানে শিলক খালের মরমেরমুখ, নারিচ্চা, পদুয়া, রাজারহাট, সুখবিলাশ, ফলারিয়া, নাপিতপুকুরিয়া, দুধপুকুরিয়া, দশমাইল, নাইচ্যাভিটা ইত্যাদি এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালের ১৮টি পয়েন্টে কমপক্ষে ৩০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলছে। ড্রেজার যন্ত্রের দীর্ঘ পাইপযোগে সড়কের পাশে বালুর মজুত গড়া হচ্ছে। মরমেরমুখ থেকে রাজারহাট পর্যন্ত কালিন্দিরানী সড়কের পাশে দেখা যায় খাল থেকে উত্তোলন করা বিশাল বিশাল বালুর স্তূপ।
এলাকাবাসী জানায়, অপরিকল্পিত এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে শিলক খালের বিপর্যস্ত অবস্থা। খালে পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তনের ফলে পাড় ভেঙে মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। একাধিক চিহ্নিত সিন্ডিকেট শিলক খাল থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে নির্বিঘ্নে পাচার করছে। অবৈধভাবে বালু পাচারে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিভিন্ন পথে বালু পাচারে পরিবহনকারী ভারী যানবাহনের চলাচলে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাটের।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে শিলক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় বোরো চাষাবাদে পানি সেচ সুবিধা বিঘ্নিত হচ্ছে। চাষাবাদে প্রতিকূলতা দূর করতে শিলক খালে বালি উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন খালে অবৈধ ড্রেজার যন্ত্র জব্দ করা হচ্ছে।
