সানির ভেল্কিতে কুপোকাত ঢাকা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৭

একেবারেই ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারকে এই ম্যাচে বেঞ্চে রেখেছিল রাজশাহী কিংস। তাদের বদলে বাজিটা ধরা হলো দুই সিনিয়র শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শাল আইয়ুবের ওপর। দু’জনই জ্বলে উঠলেন। তার চেয়েও বেশি জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি।

আর এদের ওপর ভর করেই এবার বিপিএলের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়ে ফেলল রাজশাহী। উড়তে থাকা ঢাকা ডায়নামাইটসকে মাটিতে পেড়ে আনলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ৮ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ঢাকাকে হতভম্ব করে দিলেন সানি। ‘আন্ডারডগ’ রাজশাহীর বিপক্ষে টানা ৪ জয় নিয়ে খেলতে নামা ঢাকা হারলো ২০ রানে।

রাজশাহীর অধিনায়ক মিরাজ গতকালও ইনিংস শুরু করলেন। গতকাল অবশ্য সাফল্য পাননি। মাত্র ১ রান করে ফিরে আসেন মিরাজ। এরপর মার্শালের সঙ্গে দিনের সবচেয়ে সফল জুটিটা করেন নাফীস। দু জনে ৭৫ রান যোগ করেন দ্বিতীয় উইকেটে। নাফীস তুলনামূলক ধীরগতির ইনিংস খেলেছেন। তিনি ২৭ বলে ৩টি চারে সাজানো ২৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। অন্য প্রান্তে মার্শাল ছিলেন একেবারে বিস্ময়কর রূপে।

মার্শাল আইয়ুব বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কখনোই টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত নন। তিনি মূলত বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচের সেরাদের একজন। সেই মার্শালই ৩১ বলে ২টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে মার্শাল ও শাহরিয়ার নাফীস ফিরে আসেন। এরপর টেন ডশেট ১৬ ও জাকির হাসান ২০ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে রাজশাহী ৬ উইকেটে ১৩৬ রান পর্যন্ত যেতে পারে।

ঢাকার ভুবনবিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপের কাছে এ রানটা মোটেও বড় কিছু হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু প্রথম ৪ ওভারের মধ্যেই মেহেদী হাসান মিরাজ, ইসু উদানা ও আরাফাত সানি কাঁপিয়ে দেন ঢাকাকে। তুলে নেন হজরউল্লাহ জাজাই, সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেলের উইকেট। এরপর শুরু হয় আরাফাত সানির কৃপণ বোলিং। তিনি টানা ৪ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান খরচ করেন; এর মধ্যে একটা মেডেন ওভারও ছিল। আর এই ৪ ওভারে তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল, রনি তালুকদার ও সাকিব আল হাসানের উইকেট। সানির এই মারাত্মক আক্রমণ সামলে ঢাকা আর ফিরে দাঁড়াতে পারেনি।

এরপর মিরাজ, মুস্তাফিজ ও রাব্বিও একটি করে উইকেট নেন। মিরাজ সবমিলিয়ে নেন ২ উইকেট। ফলে ৮৭ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ঢাকা। এখান থেকে নুরুল হাসান সোহান একটা পাল্টা আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ১৪ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ২১ রান করেন। তাতে পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমেছে কেবল। লাভের লাভ কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১১৬ রানে থমকে গেছে ঢাকার ইনিংস।