স্পোর্টস রিপোর্টার
ঢাকা ডায়নামাইটসের পর ঢাকায় বিপিএলের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল দল ছিল চিটাগং ভাইকিংস। চার ম্যাচের তিনটিই জিতেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। উপভোগ্য ক্রিকেটও উপহার দিয়েছিল চিটাগং। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার সুপার ওভারের লড়াইয়ে খুলনার টাইটান্সের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল চট্টলার দলটি। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিরুদ্ধে মুশফিকের ব্যাটিং বীরত্বে বিশাল স্কোর তাড়া করে জিতেছিল চিটাগং। হেরেছিল শুধু সিলেট সিক্সার্সের কাছে।
দ্বিতীয় পর্ব খেলতে সবগুলো দল সিলেট চলে গিয়েছে। অবশ্য গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় ছিল চিটাগং। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে দলটি। আজ বিকেলের ফ্লাইটে সিলেট যাবে মুশফিক বাহিনী। সিলেটে চিটাগংয়ের ম্যাচ মাত্র একটি। আগামী ১৯ জানুয়ারি খুলনার বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে মাঠে নামবে চিটাগং। ওই দিন ম্যাচ খেলেই রাতে ঢাকায় ফেরার কথা তাদের। কারণ ২১ জানুয়ারি আবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে খেলবে চিটাগং।
তবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চারটি ম্যাচ খেলবে মুশফিকের দল। চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হবে ২৫ জানুয়ারি। হোম ভেন্যুতে চিটাগংয়ের ম্যাচ বেশি রাখায় সিলেটে থাকছে মাত্র একটি ম্যাচ।
এখন পর্যন্ত চিটাগংয়ের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মোহাম্মদ শাহজাদ। আফগানিস্তানের এই ওপেনার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করতেই পছন্দ করেন। তবে বিপিএলে এখনও চিটাগংয়ের হয়ে সেভাবে হাসেনি তার ব্যাট। চার ম্যাচে করেছেন ৮৯ রান, সর্বোচ্চ ৪৬। গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে শাহজাদ বলেছেন, উইকেট ব্যাটসম্যানদের সহায়ক নয়। বরং পেসারদের সাহায্য করছে উইকেট। তাই জ্বলে উঠতে পারছে না তার ব্যাট। তবে উইকেটে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
আফগান এই ব্যাটসম্যানের কাছে দর্শকদের চাওয়া মারকাটারি ব্যাটিং। গতকাল এ প্রসঙ্গে শাহজাদ বলেছেন, ‘অবশ্যই। আমি শারজাহতে খেলেছি যেখানে উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব। কিন্তু ঢাকার উইকেট শারজাহ’র চেয়ে ভিন্ন। উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো নয়। আমরা দেখছি ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করার বদলে উইকেট পেসারদের জন্য সহায়ক।’
টি-২০ ফরম্যাট খেলা হিসেবে উইকেট বেশ অপ্রত্যাশিত বলেই জানিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই আফগান ক্রিকেটার। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকার উইকেটে অনেক অসমান বাউন্স আছে। আমরা দেখেছি কিছু বল নিচু হয়ে আসে এবং অনেক সময় উপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি উইকেটের ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আমরা শেষ তিন ম্যাচে ভালোই করেছি।’
চিটাগংয়ের বিপিএল ভালোই কাটছে। শাহজাদ বলেছেন, ‘আমরা চার ম্যাচের তিনটি জিতেছি। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা সিলেটে একটা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত। তারপর আমরা ঢাকায় ফিরবো। পরে আমাদের চিটাগং যেতে হবে। আমরা সবসময় প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত বিপিএল আমাদের জন্য ভালোই গেছে।’
ঢাকায় থাকলেও সিলেটের ম্যাচগুলো দেখছেন চিটাগংয়ের ক্রিকেটাররা। সিলেটের উইকেট সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন ম্যাচ দেখে। শাহজাদ বলেছেন, ‘আমরা সিলেটে শেষ ম্যাচটা দেখেছি। আমরা দেখলাম বল ঢাকার মতোই অনেক স্পিন করছে। আমরা সব কন্ডিশনের জন্যই প্রস্তুত। আমি এবং অন্যরা ভালো করতে চেষ্টা করবে। প্রতিদিন ভালো করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা চেষ্টা করবো।’
বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করেন শাহজাদ। যখন সুযোগ হয় বাংলাদেশে আসতে ভালো লাগে এই আফগান ক্রিকেটারের।
