স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর এতো সমস্যা, এতো সংকট, এতো অভাব-অনটনের কথা শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চোখ কপালে উঠে গেছে। শেষ পর্যন্ত সবার কথা শুনে তিনি ফেডারেশনগুলোকে জানিয়েছেন সবাই যেন কার কি পরিকল্পনা রয়েছে তা লিখিতভাবে দেয়।
ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, মাঠ, জিমনেসিয়াম এবং বাজেট বৃদ্ধি করা আরো অনেক বিষয়। তারা বলেছেন বিদেশি কোচ, ক্রীড়া সামগ্রী, জিমনেসিয়াম, ক্রীড়াবিদদের হোস্টেল দরকার।
বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গনে ফেডারেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে ৫৩টি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এনএসসি টওয়ারের ষষ্ঠ তলায় গতকালকের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ৪০ জন বক্তব্য দিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে বলা অভাব-অভিযোগের কথাগুলো ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লিখেও নিয়েছেন। তারপরও লিখিত দিতে বলেন তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা পরিকল্পনা করুন আগামী এক বছরে কি করতে চান। ৩ বছর পর এবং আগামী ৫ বছর পর নিজেদের কোথায় দেখতে চান। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রস্তুত করুন। না দিলে আমি বাজেট চাইব কিভাবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘সবই বাস্তবায়ন সম্ভব। আমার কাছে খারাপ লেগেছে ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ২১টিরই এডহক কমিটি। এটিকে গণতান্ত্রিক উপায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায় কিভাবে সেটিও দেখব আমরা।’
হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ফজল বুলবুল বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের বাজেট হওয়া উচিত ৫ হাজার কোটি টাকা। ক্রীড়া বাজেটে সহায়তা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আপনি যদি চান তাহলে আমি ৫০০ কোটি টাকা ম্যানেজ করে দিতে পারি। তবে এই টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করার গ্যারান্টি আপনাকে দিতে হবে।’
শ্যুটিং ফেডারেশনের সভাপতি নাজিমউদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘বাজেট, ট্রেনিং এবং কম্পিটিশনের জন্য আমরা কথা বলেছি।’ কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তবিউর রহমান পালোয়ান বলেন,‘এনএসসি টাওয়ারে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোকে জায়গা দেওয়া হয়নি।’
এনএসসির বরাদ্দকৃত অর্থ এফডিআর করে আয় দিয়ে ফেডারেশন চলতে পারে- এমন কথা বলেছেন বেসবলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন। এফডিআরের বিষয়টি নিয়েও ক্রীড়ামন্ত্রী কথা বলেন।
বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে সন্ধ্যা ৬টায়। শেষ বক্তা হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলছিলেন,‘সবার সুচিন্তিত মতামত পেয়েছি। আপনাদের সমস্যাগুলো আমার জানা। আরেকটি বৈঠক করব। আপনারাও লিখিত বক্তব্য পাঠান।’
আলোচনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আভাস দিয়েছেন কাজ না করলে ক্রীড়াঙ্গনে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি বললেন,‘অনেকে দায়িত্ব নেন, পালন করেন না। নিজেদের পরিচিতির জন্য থাকেন। কেউ চব্বিশ ঘণ্টাই ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভাবেন। আর যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি খবরও রাখেন না।’ আশ্বাস দিয়ে গেছেন বাজেট বৃদ্ধি করাসহ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে চেষ্টা করবেন। তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন,‘আমি কি কাজ করছি সেটা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। আর আপনারা কি করছেন তা দেখব আমি।’
