স্পোর্টস রিপোর্টার
রেকর্ড ভাঙাগড়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। আর তার নতুন কীর্তি হলো ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় ৪০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া। আর এই অর্জনের পথে সতীর্থদের অবদানের কথাটা বারবারই স্মরণ করছেন ফুটবল বিশ্বে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জয় করা এই আর্জেন্টাইন। এটাও জানালেন যে তিনি আরও গোল পেতে মরিয়া।
লা লিগায় ৪৩৫ ম্যাচ খেলে অসাধারণ এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। দুর্দান্ত এই পথচলায় ম্যাচপ্রতি গোল করেছেন প্রায় ০.৯২ হারে। এই সময়ে মেসি ৮৩ ম্যাচে গোল করেছেন দুটি করে। আর হ্যাটট্রিক করেছেন ৩১ বার। স্প্যানিশ গণমাধ্যম মুন্ডো দেপোর্তিভোকে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত যে আমি ৪০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছি। আশা করি, সামনে আরও কিছু গোল পাব।’
লা লিগায় খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে গোলের হিসেবে মেসির ধারে কাছে নেই কেউ। সবচেয়ে কাছে থাকা এ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের আরিটজ আডুরিজের গোল ১৫৭টি। মেসি জানালেন, গোল করা তখনই আনন্দদায়ক যখন গোলটা দলের কাজে লাগে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই দলকে সাহায্য করতে চাই। সেটা যেভাবেই হোক না কেন, কখনো সেটা গোল করে করি, কখনো বা অ্যাসিস্ট করে করি। কিংবা এমন কোনো পাস দিতে চেষ্টা করি যা দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।’ লা লিগার ৯০ বছরের ইতিহাসে সেরা গোলদাতাদের তালিকাতেও বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। গত বছর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে দেওয়ায় মাঠটা একেবারেই ফাঁকা হয়ে গেছে মেসির। লা লিগায় থাকলে মেসির প্রধান হুমকি থাকত সি আর সেভেনেই। কারণ মেসির চেয়ে অনেক ম্যাচ কম খেলে লা লিগায় রোনালদো করেছেন ৩১১ গোল। মাত্র ২৯২ ম্যাচে গোলগুলো করেন বর্তমানে জুভেন্টাসে খেলা পর্তুগিজ তারকা। আর মেসি ৪০০ গোল করতে খেলেছেন ৪৩৫ ম্যাচ।
যদিও মেসি সংখ্যা রেকর্ডের দিকে খুব বেশি মন দেন না বলেই দাবি করলেন, ‘আমি কখনোই সংখ্যা বা রেকর্ডে চোখ রাখি না। আমি প্রতিটা দিনে প্রতিটা ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেই। গোলের চেয়েও আমার বেশি লক্ষ্য, ম্যাচ থেকে যেভাবেই হোক তিনটা পয়েন্ট নিয়ে বের হওয়ার। বার্সেলোনাকে লা লিগায় সবচেয়ে ধারাবাহিক রাখাই আমার লক্ষ্য থাকে।’
মেসির এই লক্ষ্য পূরণে তার সতীর্থদের ভূমিকাও কম নয়। সেটা স্বীকার করে নিলেন মেসিও। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে সতীর্থদের সহায়তা ছাড়া এর কোনো কিছুই সম্ভব হতো না। এখন যাদের সঙ্গে খেলি কিংবা আগে যাদের সঙ্গে খেলতাম— তাদের ছাড়া ৪০০ গোল করা সম্ভব ছিল না।’
এতগুলো গোলের মধ্যে কোন গোলটা মেসির সবচেয়ে প্রিয়? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মেসি ফিরে গেলেন ২০০৫ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। মেসি বলেন, ‘আলবাসেতের বিপক্ষে প্রথম গোলটা আমি করেছিলাম রুনির (রোনালদিনহো) পাস থেকে। সেই গোলটা কখনোই ভুলব না। এর বাদে এল ক্লাসিকোতে করা যেকোনো গোলই আমার জন্য খুব স্পেশাল। এর বাদে শক্ত প্রতিপক্ষ যেমন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া কিংবা সেভিয়ার বিপক্ষে করা গোলগুলোকে আমি এগিয়ে রাখব। আর ন্যু ক্যাম্পে নিজেদের সমর্থকদের সামনে গোল করার অনুভূতিটাই আলাদা। আসলে কোন গোল কতটা দর্শনীয় সেটা দিয়ে গোলের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। একটা দল দলের যতটা কাজে আসে, গোলটা ঠিক ততটাই দামি।’
