একটি বিশাল আকারের ট্রায়াল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনার টিকা ৭০ শতাংশ কার্যকরী। তবে সঠিকভাবে এই ভ্যাকসিনের ডোজ প্রদান করা গেলে তা শরীরে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাত্ তাদের দাবি সত্য হলে এটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিনে ৯৫ ভাগ কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইতিমধ্যে তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক, রাশিয়ার স্পুটনিক এবং মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে একটি অর্থাত্ ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিনটি ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে ৯৪ শতাংশ কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। সেই হিসেবে অক্সফোর্ডের কার্যকারিতা অন্যসব ভ্যাকসিনের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে অন্যান্য ভ্যাকসিনের চেয়ে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন দামের দিক দিয়ে অনেকটাই সস্তা হবে এবং এটি বিশ্বের যে কোনো স্থানে সংরক্ষণ করাও বেশ সহজ। তাই এদিক দিয়ে বলা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন নিয়ে তেমন একটা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে মহামারি নিয়ন্ত্রণে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই ভ্যাকসিনের ১০ কোটি ডোজ তৈরির জন্য অক্সফোর্ডকে পূর্বনির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, আমরা হয়তো আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অনেকটা কাছাকাছি চলে যেতে পারব। ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের একে অপরকে দেখে রাখতে হবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি মহামারি করোনার ভ্যাকসিনটি ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে। এতে করে এই আশা তৈরি হয়েছে যে, করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষ হয়তো এই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে সুরক্ষা পাবে। —বিবিসি
