শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা
রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
যে বয়সে ছেলেমেয়েরা বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, যে বয়সে শিশুরা অবসর সময়ে মাঠ মাতিয়ে খেলাধুলা করার কথা—সে বয়সে শিশুরা বিভিন্ন শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব শিশুরা এক সময় লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতী রোগ করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেকেই শুঁটকিপল্লি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের অভিমত, প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা বাড়বে।
উখিয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পাতাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, করোনা মহামারির কারণে অনেক পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় অর্থ সংকটে ভুগছেন তারা। ফলে বাড়তি আয়ের জন্য সন্তানদের কাজে লাগিয়েছেন তারা। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাদারবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার মোক্তার আহমদ জানান, করোনা ভাইরাসের দীর্ঘ ছুটির কারণে তার স্কুলে প্রভাব পড়েছে। ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়তে পারে। এসব শিশুদের আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।
জালিয়াপালং বাদামতলী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাগর, মনির, জাবেদ ও সেলিম নামের ৪ শিশু মাছ ধরছে। তাদের বয়স ১১ থেকে ১৩ বছর। তারা জানায়, সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তারা। স্কুল বন্ধ থাকায় খালে মাছ ধরে দৈনিক ২০০/৩০০ টাকা করে আয় করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলে, আর কি স্কুলে যাব, এখানে ভবিষ্যতে দৈনিক ৪০০/৫০০ টাকা রোজগার করা যাবে।
চোয়াংখালী শুঁটকিপল্লিতে কাজ করছে নছিমা, আয়েশা, রহিম, শহিদসহ প্রায় সাত/আট জন ছেলেমেয়ে। এরা সবাই চোয়াংকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল বন্ধ থাকায় তারা এখানে কাজ করে দৈনিক ২০০ টাকা করে রোজগার করার কথা জানায়। উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বছর জুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সারা দেশে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহর প্রবণতা বেড়ে গেছে। অচিরেই শুঁটকিপল্লিসহ শিশুশ্রমে যুক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হবে। যারা শিশুদের চাকরির নামে খাটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
