মুক্তিযুদ্ধের আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির উদ্যোগে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২৩:৫৮

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ব্যবহূত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির সরকারি উদ্যোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। ঐ সময়ে ব্যবহূত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা কত এবং তা কি অবস্থায় আছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বা স্থানান্তরের উদ্যোগ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে ঐ রুলে।

‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ এই শিরোনামে গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহূত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে, এগুলো পুরোনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনো দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি। পুরোনোর পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিরও উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৬ বছর আগে। এ বিষয় নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী জেডআই খান পান্না ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রিটে মুক্তিযুদ্ধের আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করে।