দাকোপে নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৩

নদী ভাঙনে ফসলি জমি বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে যত্রতত্র মাটি বালু উত্তোলন করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চলছে কৃষি জমি ভরাট করে জমজমাট পোলাটিং ব্যবসা। এতে প্রতিনিয়ত তীব্র নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে। 

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসাধু কতিপয় ব্যক্তি কাজীবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকী নদী এবং পাউবোর বেড়িবাঁধের ভেতরে বিভিন্ন খাল থেকে অবৈধভাবে স্যালো বা ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আবার কেউ কেউ কৃষি জমি ভরাট করে চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট পোলাটিং ব্যবসা। ফলে কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে। এতে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে প্রতিনিয়ত গাছপালা, বসতবাড়ি ও ফসলি জমিসহ পাউবোর বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। ওই সব অসাধু ব্যক্তি প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে সড়ক, স্কুল-কলেজের মাঠ ভরাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা কাজে প্রতি ঘনফুট দুই থেকে আট টাকা দরে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কোনো কোনো স্থানে আবার রাস্তার উপর ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে পাইপ বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বালু উত্তোলনের ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নসহ দুর্ঘটনাও ঘটছে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির নিচের স্তর ফাঁকা হওয়ার কারণে ভূমিকম্পে এসব এলাকা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও করছে এলাকার সচেতন মহল।

এদিকে কথিত ঠিকাদার বা ব্যবসায়ীরা ওই নিম্নমানের বালু দিয়ে দেদার চালিয়ে যাচ্ছে সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজ। এ বিষয়ে চালনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম সাহা বলেন, বিভিন্ন এলাকার কতিপয় ব্যক্তি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে যত্রতত্র অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলন করে বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অতি দ্রুত এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সঞ্জীব দাশ বলেন, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ করে আসলে আবার দু-একদিন পর শুরু করে। এছাড়া যেসব ভূমিদস্যু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে কৃষি জমি ভরাট করছে উভয়ের বিরুদ্ধে খোঁজ-খবর নিয়ে দু-একদিনের মধ্যে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।