রঘুনন্দন সিকদার, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ২৮ গ্রামের মানুষ আর্সেনিক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ইতোমধ্যে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ২৮টি গ্রামের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত করেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ে এসে বিনামূল্যে আর্সেনিক পরীক্ষার তাগিদও দিয়েছেন এই অধিদপ্তর।
বালিয়াকান্দি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর তথ্যমতে, উপজেলার ৭ ইউনিয়নের রয়েছে প্রায় ১৫০ গ্রাম। গ্রামগুলোয় অধিদপ্তরের দেওয়া টিউবওয়েলের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ২’শ এবং ব্যক্তিগত টিউবওয়েল রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার।
জনস্বাস্থ্য জরিপ সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের পাইককান্দি, শালমারা। বহরপুর ইউনিয়নের বাবুলতলা, রায়পুর, ইলিশকোল, কুবদি, চরগুয়াদাহ, মধুপুর। নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া, এলাঙ্গীডাঙ্গী। ইসলামপুর ইউনিয়নের ঠাকুর নওপাড়া, শামুকখোলা, শেকাড়া, নওপাড়া, তেনাই শিবপুর। নবাবপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া পদমদী, সোনাপুর, কুরশী, সদাশিপুর, দিলালপুর, বড় হিজলী, মেছুয়াঘাটা, পদমদী, সোনাইকুড়ি, হোগলাডাঙ্গী। জঙ্গল ইউনিয়নের নতুন ঘুরঘুরিয়া, শশাপুর, বন্যাতৈলসহ ২৮টি গ্রামে অল্প কিছু টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে।
উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাবুলতলা গ্রামে কিছু মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে। বাবুলতলা গ্রামে ওসমান মোল্লার পরিবারের সবার হাতে-পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘা দেখা দিয়েছে এবং সারা শরীরে ব্যথা আর প্রচণ্ড চুলকানিও হচ্ছে বলে জানান তারা। ওসমান মোল্লার পরিবারের লোকজন টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক হওয়ায় পাশের বাড়ি থেকে খাওয়ার পানি আনেন। কিন্তু অন্যান্য কাজের জন্য বাড়ির টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করায় তাদের হাতের আঙুলের ফাঁকে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রেজা বলেন, সর্বশেষ ২০০৩ সালে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে সীমিত আকারে আর্সেনিক জরিপ করা হয়। ওই বছরই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ে কেউ পানি নিয়ে এলে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ৪জন রোগীকে শনাক্ত করে চিকিত্সা দেওয়া হয়। তা ছাড়া আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে এসে চিকিত্সা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজা জানান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী গ্রামগুলোতে আর্সেনিকযুক্ত ১০টি টিউবওয়েলের মাথা খুলে আনা হয়েছে এবং ৫টি টিউবওয়েল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
