দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে সরকারকে সুপারিশ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:০৯

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এসএমই খাতগুলোতে এখনও প্রণোদনার বরাদ্দের সব টাকা পৌঁছানো যায়নি। এর জন্য আলাদা কর্মকৌশল ঠিক করা দরকার। কোভিড-১৯ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ব্যবসায়-বাণিজ্য সচল রয়েছে। সরকারের প্রচেষ্টায় মানুষ সচেতন হচ্ছে, ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সফলভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য সচল রাখতে সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সংবলিত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির জন্য এসব পদক্ষেপ খুবই প্রয়োজন ছিল। সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। এ সময়ে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উত্পাদন, সরবরাহ এবং মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার সক্ষম হয়েছে। প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশে কোনো পণ্যের সংকট হয়নি বা মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ’ বিষয়ে সিরিজ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রথম সভার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’। অনুষ্ঠানে বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টিমবন, বিজিএমইর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, এই মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিখাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে গেছে। তবে আশা করছি, অচিরেই এই পরিস্থিতি থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমরা যদি ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ভালোভাবে টিকে থাকতে পারি, তাহলে আমাদের আর চিন্তা করতে হবে না। সেজন্য আমাদের প্রয়োজন এধরনের আরেকটু সহায়তা।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। এজন অর্থনীতি সচল রাখতে জীবিকা ও কর্মসংস্থানের খাতগুলোকে কেন্দ্র করে আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিতে হবে। তবে তার আগে বর্তমান প্যাকেজের একটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। কারন বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রণোদনার সুবিধা বেশি ভোগ করেছে, মাঝারি শিল্পগুলো কিছুটা কম সুযোগ পেয়েছে।