শিশুর অতিরিক্ত ওজনে ঝুঁকি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

ডা. তানজিয়া নাহার তিনা

শিশুর জন্মের পর নির্দিষ্ট হারে তার দেহের বৃদ্ধি ঘটে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি শিশুর এই বেড়ে উঠার জন্য খুবই প্রয়োজন। তবে শিশুটির ওজন যখন তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায় তখনই দেখা যায় সমস্যা। ছোট বেলা থেকেই শিশুর বাড়তি ওজনের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। গবেষণায় দেখা যায়, ওজনাধিক্য শিশুরা বয়স বাড়লে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হূদরোগের ঝুঁকিতে পড়ে। মোটা শিশুদের মনোযোগে ঘাটতি হয়, দক্ষতা কমে যায়। সাধারণত শিশুর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্চক্যালরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এবং খেলাধুলা বা কায়িক শ্রমের অভাবই অনিয়ন্ত্রিত ওজনের কারণ। এছাড়া কিছু হরমোনাল, জেনেটিক, স্নায়ুরোগ, মানসিক রোগ বা ওষুধের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি শিশুর বাড়তি ওজনের কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় যেসব মা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তাদের শিশুরা পরবর্তী জীবনে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগে থাকে। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে শিশুকাল থেকেই অভিভাবকদের দৃষ্টি দিতে হবে।

শিশুর খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার দিতে হবে। শিশু কোনোভাবে বাড়তি প্রোটিন বা শর্করা কিংবা চর্বিজাতীয় খাবার বেশি পাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বাইরের খাবারের পরিবর্তে শিশুকে ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় উত্সাহী করতে হবে। টিভি, মোবাইল ফোন কিংবা ভিডিও গেমসের আসক্তি এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো অসুখের কারণে শিশু স্থূলতায় ভুগছে কিনা তা নির্ণয় করতে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ