পীরগঞ্জ পৌর শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে আতঙ্কে আছে স্থানীয়রা। স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মর্নিং ওয়াক করেন তারাও কুকুরের ভয়ে বিপাকে পড়েছেন। অক্টোবরের শেষদিকে পীরগঞ্জ পৌর শহরের রঘুনাথপুর মহল্লার ঈদগাহ্ বস্তির মোস্তফা আলমের স্ত্রী খালেদা বেগম, মোসারুল ইসলামের ছেলে মাহাফুজ, শরিফুল ইসলামের ছেলে সোহান, আপেল মাহামুদের ছেলে আদিব, জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জুবায়ের, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে লিখন ও মিত্রবাটির সূর্য মোহন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। সূর্য মোহন পীরগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ঘুরে বর্তমানে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে এআর ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিত্সা করছেন।
মিত্রবাটি মহল্লা নিবাসী পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম কামালউদ্দিন জানান, কয়েকদিন আগে বাড়ির উঠানে তার পরিবারের শিশুরা খেলা করার সময় দল বেঁধে কুকুর তাদের ঘিরে ধরে এবং কামড় দেওয়ার মত ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তিনি বেওয়ারিশ কুকুরের ছোবল থেকে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহতও হন। পৌর শহরে পূর্ব চৌরাস্তা, পশ্চিম চৌরাস্তা, কলেজ মোড়, গুয়াগাঁও মোড়, জয়বাংলা মোড়, গ্রীন লাইন, শান্তিবাগ, নেতার মোড়, কলেজ হাট, রেজিস্ট্রি অফিসের উত্তর পাশে, সোনালী ব্যাংক, কৃষিব্যাংক, পৌরসভা চত্বর, হাসপাতাল এলাকাসহ সরকারি মডেল প্রাইমারি স্কুল, গার্লস হাইস্কুল, সরকারি কলেজ, সবুজ প্রাইমারি স্কুলের সামনে প্রায় প্রতিদিনই ১০/১২টি করে কুকুর দল বেঁধে অবস্থান করে। বেশিরভাগ সময় এসব কুকুর আক্রমণ করে সাধারণ পথচারীদের। এছাড়াও গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ গৃহপালিত গবাদিপশুকে কামড় দিয়ে আহত করে এসব বেওয়ারিশ কুকুর।
এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কশিরুল আলম জানান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে নিষেধাজ্ঞার কারণে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে।
এন্টি রেবিশ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সুব্রত কুমার সেন জানান, গত জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ মাস ১০ দিনে সারা জেলার ৩ হাজার ৬৯৫ জন রোগীকে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। তবে তিনি উপজেলাওয়ারি রোগীর পরিসংখ্যান জানাতে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন।
