করোনাকালের শুরুতেই রমনা পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। পার্কে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকাবী বয়োজ্যেষ্ঠরা গৃহবন্দি থেকে কিছুদিনের মধ্যেই হাঁপিয়ে ওঠেন এবং পার্কটি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁদেরই একজন আমার প্রাক্তন সহকর্মী ফেসবুকে পার্কের কিছু কিছু ছবি পোস্ট করেন, তার মধ্যে সর্বশেষ আটটি ছবি দেখে আমি মর্মাহত হয়েছি। এই কি আমার যৌবনে দেখা প্রিয় রমনা পার্ক?
আমার জানামতে, উদ্ভিদবিদ্যায় সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী একজন কর্মকর্তা এই পার্কটির সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিয়োজিত। প্রতিদিন না হলেও মাসে দু-চারবার পার্কটি তাঁর পরিদর্শন করার কথা। আরবরিকালচার বিভাগ নামে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি দপ্তর রয়েছে—পার্ক, গণভবন, সংসদ ভবন তথা সম্পূর্ণ শেরেবাংলানগর দেখভাল করে। তাদের কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় রমনা পাক থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত। এরা কেউই রাজধানীর প্রধান, সর্বপ্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এই পার্কটির কোনো খোঁজখবর রাখবে না তা বিশ্বাস করা যায় না। তাহলে পার্কের এই দৈন্যদশা কেন? এটি শুধু বন্ধ করা এবং খুলে দেওয়ার মধ্যেই কি কর্তৃপক্ষের দায় সীমাবদ্ধ?
ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ
সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা
