পুরো নাম মোকলেসুর রহমান মিজবা। পড়াশুনা করছেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে। তিনি তৈরি করছেন এমন একটি অ্যাপস্ যা ব্যবহার করে অতি সহজে সুলভে দেশের সাধারণ মানুষ পাবে স্বাস্থ্যসেবা।
মিজবা জানান, এমন এক প্রজেক্ট দিয়ে দেশের জাতীয় পর্যায়ে এক আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সম্মাননা পায় তার নেতৃত্বে চারজনের দল। ‘যত্ন হেলথ কেয়ার’ শীর্ষক প্রজেক্টটি সম্মাননা প্রাপ্তির সাথে সাথে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতা করা হয়। কিভাবে এমন একটি কাজ করার বিষয়ে উত্সাহিত হলেন প্রশ্ন করলে মিজবা বলেন, সিরাজগঞ্জের চৌহালি থানায় বেড়ে ওঠার সময় দেখেছেন গ্রামের মানুষ দুটি কারণে ছোট্ট রোগকে বড় করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। যার একটি হলো- তাদের হাতের কাছে আধুনিক চিকিত্সাসেবা না থাকা। এ কারণে তারা নানা রকম ঝাড়-ফুঁকসহ কবিরাজের আশ্রয় নেয়। অপরটি হলো- ঝাড়-ফুঁক বা অপচিকিত্সার মাধ্যমে তাদের যে রোগটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে সে জ্ঞানের অভাব। মিজবার মতে- শুধু গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে আছে তা নয়, এক্ষেত্রে শহরের মানুষের আছে অন্য আর এক বিড়ম্বনা। শহুরে ট্রাফিক জ্যাম, ডাক্তার আর প্যাথলজির লম্বা সারিও মানুষকে চিকিত্সা সেবা নিতে নিরুত্সাহিত করে। মানুষ রোগের শুরুতে চিকিত্সসেবা গ্রহণে উত্সাহ দেখায় না। ফলে ছোট রোগ ফুলেফেঁপে বড় হয়। এমন সব সমস্যা সমাধান করবে মিজবা ও তার দলের তৈরি করা অ্যাপসটি।
কিভাবে কাজ করবে তার এই ‘যত্ন হেলথ কেয়ার’ প্রশ্ন করলে জানান, গুগল প্লেস্টোর থেকে তাদের অ্যাপস্ ডাউনলোড করে যে কেউ সেবা চাইলে, সাথে সাথে সেবা দেয়ার জন্য তার বাড়িতে চলে যাবে আমাদের টিম। সেবাগ্রহিতার বাড়িতেই ‘পিওসিটি’ ডিভাইসের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে। পরে অনলাইনে সরাসরি চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র নিতে পারবে রোগী। এতে খরচও খুব বেশি হবে না। সহজে ঘরে বসে অল্প ও মধ্য-আয়ের মানুষ মিজবার এই চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। স্মার্ট হেলথ বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিজবা জানান, ৫ বছর ধরে কখনো নিজের প্রজেক্ট আবার কখনো নামিদামি প্রতিষ্ঠানের হয়ে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কখনো তার কাজ আলোর মুখ দেখেছে, কখনো আবার ব্যর্থও হয়েছে। কিন্তু তাতে দমে যাননি। লেগে থেকে চেষ্টা করে গেছেন। মিজবা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সর্বসাধারণের জন্য কাজ করবে ‘যত্ন হেলথ কেয়ার’।
