এটিএমে টাকা তুলতে নানা বিড়ম্বনা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৩

যেকোন সময় নগদ টাকা তুলতে গ্রাহকরা অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) সহায়তা নেন। ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে এ ব্যবস্থা করেছে। এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকেও টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু দিন দিন সেবার পরিবর্তে এটিএম বুথে গ্রাহকদের বিড়ম্বনা বাড়ছে। এটিএম বুথে গিয়ে নেটওয়ার্ক সমস্যা, টাকা না থাকা, নির্দেশিত পরিমাণের চেয়ে কম টাকা বের হওয়া, মেশিন থেকে জাল ও ছেঁড়া নোট সরবরাহ, বিদ্যুত্ সমস্যাসহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্রাহকরা ।

এদিকে এটিএম বুথের সেবার মান, পরিবেশ প্রভৃতি নিয়ে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করলেও তা আমলে নিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। গ্রাহকরা বলছেন, দ্রুত ও উন্নত সেবা পেতে এবং বাড়তি ঝামেলা এড়াতে তারা এটিএম কার্ড ব্যবহার করছেন। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অধিকাংশ ব্যাংকের গ্রাহকই এটিএম বুথে কমবেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলে জানা গেছে।

এইচ এম তৌহিদ আজিজ ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) একজন গ্রাহক। তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি তিনি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এর ডিবিবিএলের বুথ থেকে ১০ হাজার টাকা তোলার জন্য নির্দেশনা (কমান্ড) দেন। তবে বুথ থেকে চার হাজার টাকা বের হয়। বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে বুথে থাকা নিরাপত্তা কর্মীকে জানান। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখায় গেলে শাখা ব্যবস্থাপক তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন যেন তিনি মিথ্যা বলছেন। পরে ওই গ্রাহক যখন এটিএম বুথের সিসি টিভি দেখতে বলেন, তখন শাখা ব্যবস্থাপক লিখিত আবেদন দিতে বলেন। এ ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই দেখা যায়নি। শাখা ব্যবস্থাপককে জানানোর পাশাপাশি ব্যাংকের কলসেন্টারে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি।

ব্যবসায়ী মারুফ আল মুজাহিদ ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহক। গত অক্টোবর মাসে তিনি রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাস শপিংমলের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে কার্ড আটকে (ক্যাপচার) যায়। তিনি জানান, কোনো কারণ ছাড়াই কার্ড ক্যাপচার হয়ে যায়। এদিকে আগেই চেক বইয়ের পাতা শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন কার্ড পেতে কমপক্ষে আরো অর্ধমাস লেগে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়মানুযায়ী, এক ব্যাংকের কার্ড অন্য ব্যাংকের বুথে ক্যাপচার হয়ে গেলে তা নষ্ট করে ফেলার কারণে এ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ব্যাংক এশিয়ার আরও একটি বড় সমস্যা হলো তাদের বুথ কম।

ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহক কিশোর কুমার। কয়েকদিন আগে তিনি মতিঝিলে ওই ব্যাংকেরই একটি বুথে টাকা তুলতে যান। দশ হাজার টাকার জন্য কমান্ড দেন তিনি। মেশিনে লেখা উঠে প্রক্রিয়াধীন, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও তিনি টাকা না পেয়ে ফিরে আসেন। পরে তার মোবাইলে ব্যাংক থেকে মেসেজ আসে অ্যাকাউন্ট থেকে দশ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ভয় পেয়ে তিনি কল সেন্টারে বিষয়টি জানান। পরে অবশ্য কল সেন্টার থেকে জানানো হয়, মেশিনের সমস্যার কারণে এমনটা হয়েছে এবং টাকা পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ হয়েছে।

এটিএম বুথে গ্রাহক বিড়ম্বনার বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া বলেন, এখন কার্ডধারীর সংখ্যা ও বুথ সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার পাশাপাশি ট্রানজেকশনও অনেক বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখন এটিএমের আওতা অনেক বেশি হওয়ায় মাঝে মাঝেই গ্রাহকরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এসব সমস্যা সমাধান করে সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। তবে গ্রাহকরা যদি হয়রানির শিকার হন তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগ আছে।