রাজধানীর কলাবাগানে সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া আসাদুল্লাহকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, ঘাতকরা টঙ্গী থেকে প্রথমে কলাবাগান আসে। পরে জুলহাসের বাসার পাশের একটা মসজিদে নামাজ পড়ে। এরপর চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলে ছিল ৭ জন। এদেরমধ্যে সরাসরি অংশ নেয় ৫ জনের কিলার গ্রুপ। এছাড়া বাইরে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আনসার আল ইসলামের ইন্টেলিজেন্ট গ্রুপের ২ জন। এই ৭ জনই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া আসাদুল্লাহকে (২৫) গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসাদুল্লাহকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানে লেক সার্কাস এলাকার বাসায় ঢুকে জুলহাস ও তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। এই হত্যাকাণ্ডে মোট ১৩ জন সম্পৃক্ত ছিল, এদেরমধ্যে আসাদুল্লাহসহ হত্যকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে কিলার গ্রুপের একজন আসাদুল্লাহ ও ইতিপূর্বে গ্রেফতার আরাফাত। গ্রেফতার বাকি ২ জন ইন্টেলিজেন্ট গ্রুপের সদস্য যাবের ওরফে জুবায়ের ও সায়মন।
মনিরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় সর্বশেষ গ্রেফতার আসাদুল্লাহর বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে। সে যশোর পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেছে। আসাদুল্লাহর বাবা ছিলেন জামায়াতের রুকন পর্যায়ের নেতা।
প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে গ্রেফতার আসাদুল্লাহ জানায়, সে আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার দাওরা প্রশিক্ষক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করত। রাজধানীর বাড্ডা, আশকোনা, গাজীপুরের বিভিন্ন আস্তানায়/মারকাজে বাসা ভাড়া নেওয়ার পদ্ধতি, নিরাপত্তার বিষয়, ডে-এ্যাম্বুশ, সম্মানজনক মৃত্যু, চাপাতি চালানো, পিস্তল চালানো, টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করার এলাকায় রেকি করা এবং হত্যার সময় ও স্থান নির্ধারণ করার পদ্ধতি সম্পর্কে সামরিক ট্রেনিং গ্রহণ করে।
