আলোচনাসভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনার কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সাধারণ চিকিত্সাসেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ চিকিত্সাসেবা যেমন—থেরাপিসেবাও নিতে পারছেন না। করোনাবিষয়ক সেবা দিতে যে হটলাইন চালু রয়েছে তা সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিতে পারছেন না—এমন মন্তব্য করা হয় ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন-জীবিকার ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায়। গতকাল শনিবার অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ঢাকা, বান্দরবান, পাবনা, রংপুর, ধামরাই থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাবের কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোনো পরিসংখ্যান থাকে না, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে; অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা থাকলেও তা সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপযোগী নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন; কারো কারো মজুরি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেরই ব্যবসা পুঁজির অভাবে বন্ধ, প্রতিবন্ধী কার্ড না থাকায় সরকারের কোভিড-১৯ সহায়তায় বিবেচনা করা হয়নি; প্রতিবন্ধী কার্ড না থাকার কারণে করোনাকালে সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন—খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়া, প্রতিবন্ধী ভাতা পেলে অন্য কোনো সহায়তা না পাওয়া, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সরকারি সব তথ্য সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জানতে না পারা, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সর্বোপরি বাজেটে অপর্যাপ্ততার কথা তুলে ধরেন।
এছাড়া সমস্যা উত্তরণে করণীয় সম্পর্কে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা করা, জরিপের আওতায় আসা সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা, আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা বাসা থেকে সংগ্রহ, সেবা দিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা হটলাইন চালু, কোভিড-১৯ বিষয়ে সরকার ৩৭টি গাইডলাইন ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে তা সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অ্যাকসেসিবল করার সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অনেক সাংবাদিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবিষয়ক আইন, নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় জানেন না। তাই সাংবাদিকদের প্রতিবন্ধিতা ইস্যুতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ধরন, লিঙ্গ, স্থান এবং ভাষা ইত্যাদি বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, সেবার বিষয়ে অডিট করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাজেট বরাদ্দ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, কুসংস্কার দূরীকরণে ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পৃক্তকরণ করা প্রয়োজন।
