বরেন্দ্র অঞ্চলে আমনের ফলন ও দাম ভালো

ধানের খড়েই উঠছে চাষের খরচ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩২

গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আর দামও ভালো পেয়ে খুশি কৃষক। এখন আবাদ করা ধানের খড় বিক্রি করেই চাষের খরচ প্রায় উঠে যাচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা দামে। নতুন ধানও বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড দামে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা এবার আমন ধানে সর্বোচ্চ লাভ করছেন। এরই মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ৭০ ভাগ জমির আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও আমন কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষান-কিষানিরা। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহীতে এবার প্রতি হেক্টর জমিতে আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩ দশমিক ৪ টন। জেলায় এবার সাড়ে ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। চাল উত্পাদনের সম্ভাবনা ২ লাখ ৫৬ হাজার টন।

গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি এলাকার ধানচাষি শরিফুল ইসলাম জানান, এবার আমন ধান চাষের সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। তাই বেশির ভাগ জমিতেই আলাদা সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। খুব উঁচু কিছু জমিতে সামান্য সেচ লেগেছে। সেচ না লাগার কারণে কমেছে উত্পাদন খরচ। যাদের নিজের জমি রয়েছে তাদের শুধু শ্রমিক, সার আর কীটনাশকের ৫ হাজার টাকা খরচেই এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হয়েছে। এই টাকা খড় বিক্রিতেই উঠে যাচ্ছে। এদিকে খড়ের ভালো দাম পেয়ে ধানচাষিরা খুশি হলেও খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। গোখাদ্যের জন্য খড় কিনতে গিয়ে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও প্রান্তিক কৃষকদের সার্বিক সহায়তা করায় ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছেন। চাষিরা এখন ধান তুলে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। এসব ধান চাতালে প্রক্রিয়াজাত শেষে উত্পাদিত চাল আবার আড়তদারের কাছে বিক্রি করা হবে।